ভাবনায় এখন বিশ্বকাপ।

ভাবনায় এখন বিশ্বকাপ।


আর কিছুদিন বাদেই শুরু হবে ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট আসর ওয়নাডে বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে এবারের আসর। এই আসরে সকল দল নিজেদের প্রস্তুত করছে। বাংলাদেশেও এই কাজে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ দল এখন নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করছে,তিনি ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের পর তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে টাইগাররা। এর আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ তে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এই দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের করুন অবস্থা দেখা গিয়েছে। দুই একজন ছাড়া বাকি সবাই মোটামুটি ফ্লপ। আর এটাই ভাবিয়ে তুলছে আমাদের মতো ক্রিকেট পাগল ভক্তদের। কারণ আগামী বিশ্বকাপে আমাদের ব্যাটসম্যানদের খেলতে হবে বাউন্স উইকেটে।

যাই হোক পিচ যেমনই হোক খেলোয়াড়েরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে জয় অসম্ভব কিছু না। তাই তো একাদশ এবং স্কোয়াডের দিকেও একটু বাড়তি চিন্তা করতে হবে। এমন কন্ডিশনে দলে ৫ জন জেনুইন বোলার রেখে খেলতে হবে বলে আমার মনে হয়। চলুন সম্ভাব্য স্কোয়াড এবং প্লেয়ারদের অবস্থান নিয়ে একটু আলোচনা করি....

.
তামিম ইকবালঃ-বাংলাদেশের সেরা ওপেনার বলা হয় তামিম ইকবালকে। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুতে একটা ভালো শুরু এনে দিতে সামনে থেকে ব্যাটিংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন তামিম। আগামী বিশ্বকাপে তামিম ইকবাল বাংলাদেশকে ভালো কিছু দিতে পারলে দলের ভালো কিছু আশা করা যাবে।

.
লিটন দাসঃ-তামিমের সহযোগী হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন লিটন দাস। দারুণ একজন ব্যাটসম্যান লিটন কিন্তু কেনো জানি নিজেকে প্রমান করতে পারছেন না,ধারাবাহিকতার অভাব লক্ষ্য করা যায় তার মাঝে। তবে আগামী বিশ্বকাপে যদি নিজের সেরাটা দিতে পারে তাহলে জয় অসম্ভব কিছু না।

.
ইমরুল কায়েসঃ- বাংলাদেশের সবচেয়ে অভাগা ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার উপরেই নাম থাকবে কায়েসের। বেকাপ ওপেনার হিসেবেই দলে জায়গা পায় বেশীর ভাগ সময় আর সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে একটুও ভুল করেন না। ১০ বছর থেকে দলে খেললেও নিয়মিত হতে পারেন নি,তবে এই বিশ্বকাপে লিটনের পরবর্তে কিছু ম্যাচে সুযোগ পেতে পারেন কায়েস।

.
সৌম্য সরকারঃ-বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সমস্যার জায়গা ওয়ান ডাউন পজিশন। এই পজিশনে এখন পর্যন্ত কেও থিতু হতে পারেন নি,কিন্তু গত কিছু সিরিজ থেকে সৌম্য এই পজিশনে খেলে আসছেন এবং মোটামুটি সফল বলা যায়। তাই আগামী বিশ্বকাপে সোম্য তিন নাম্বার পজিশনে খেলছেন এইটা বলায় যায়।

.
মুশফিকুর রহিমঃ-বাংলাদেশের সবচেয়ে টেকনিক্যাল ব্যাটসম্যান বলা হয় মুশিকে। দলের প্রয়োজনে ব্যাটিংয়ে সামনে থেকে এগিয়ে নিয়ে যায়,বাংলাদেশের বিপদে তিনি একাই লড়াই করে ম্যাচ জেতানোর রেকর্ডও আছে, আগামী বিশ্বকাপে মুশির ব্যাটিংয়ের ভালো কিছু আশা করা যায়।

.
সাকিব আল হাসানঃ-বাংলাদেশের প্রাণ বলা হয় সাকিব কে। বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাট-বল হাতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে যান তিনি। এই বিশ্বকাপে সাকিব ভাই যদি নিজের সেরাটা দিতে পারে তাহলে ভালো কিছু আশা করা যায়।

.
মোহাম্মদ মিথুনঃ-মিডল অর্ডারে দারুণ ব্যাটিং করে চলছেন তিনি,কিন্তু বিশ্বকাপে মূল স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া নিয়ে অনেক সংশয় রয়েছে কারণ এই পজিশনে খেলে থাকেন সাকিব ভাই, তাই তাকে একাদশের বাহিরে থাকতে হতে পারে কিছু ম্যাচ।

.
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদঃ-সাইলেন্ট কিলার নামেই সবাই কাছে পরিচিত রিয়াদ ভাই। দলের প্রয়োজনে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই বিশ্বকাপে রিয়াদ ভাই নিজের সেরাটা দিতে পারলে জয় অসম্ভব কিছু না।

.
সাব্বির রহমানঃ-বাংলাদেশের দলের আরেকটি সমস্যার জায়গা হলো ৭ নাম্বার পজিশন। এই পজিশনে এখন পর্যন্ত অনেকে খেলেছে কিন্তু সবার থেকে সফল বলা যায় সাব্বির কে। এই বিশ্বাকাপে সাব্বির যদি এই পজিশনে খেলে তাহলে রিয়াদ ভাইয়ের পাশাপাশি তিনিও ভালো কিছু দিতে পারলে বড় রানের সংগ্রহ পেতে পারে বাংলাদেশ।

.
মিরাজঃ-স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে মোটামুটি সফল মিরাজ। কিন্তু এমন বাউন্স উইকেটে কতোটা সফল হবে এটাই দেখার বিষয়।।

.
সাইফউদ্দিনঃ-পেস অলরাউন্ডার হিসেবে দলে অনেকটা এগিয়ে আছেন সাইফ,ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও মোটামুটি সফল।

.
মাশরাফি বিন মুর্তজাঃ-অধিনায়কের দায়িত্বে থাকবেন ম্যাশ। এটাই ম্যাশের শেষ বিশ্বকাপ এই বিশ্বকাপে দলের জন্য এবং নিজের জন্য ভালো কিছু করতে হবে ম্যাশকে। বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিনিশিংয়ে মাঝে মাঝে ভালোই ব্যাটিং করে থাকেন ম্যাশ তাই এই বিশ্বকাপে ম্যাশকে ভালো কিছু করতেই হবে তাহলে বাংলাদেশ ভালো কিছু করবে বলে আশা করা যায়।

.
মোস্তাফিজুর রহমানঃ-পেস ডিপার্টমেন্টকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবেন ফিজ। এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশকের ভালো কিছু এনে দিতে বোলিংয়ে ভালো কিছু করার বিকল্প নেই ফিজের সামনে।

.
রুবেল হোসেনঃ- স্পিড স্টার হিসেবে সবার থেকে এগিয়ে আছেন রুবেল, তাছাড়াও বাউন্স উইকেটে দারুণ সফল রুবেল। তাই এই বিশ্বকাপো রুবেলের বোলিংয়ে ভালো কিছুর আশা করা যায়।

.
তাসকিন আহমেদঃ-বিপিএল সিজন সিক্সে দারুণ বোলিং করেছেন তাস্কিন। এছাড়াও তার বলে অনেক পেস রয়েছে যা বাউন্স উইকেটে অনেক সাহায্য করবে। এই বিশ্বকাপে তাসকিনকে ভালো কিছু করতে হবে।

তাহলে ১৫ সদস্যের দল হলোঃ-
তামিম,লিটন,ইমরুল,সৌম্য,মুশি,সাকিব,মিথুন,রিয়াদ,সাব্বির,মিরাজ,সাইফ,ম্যাশ,রুবেল,ফিজ,তাসকিন।

আশা করছি এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ভালো করবে।

আর হ্যা ভাইসকল এইটা আমার স্কোয়াড বলেছি সুতরাং এইটা আপনার মতামতের সাথে নাও মিলতে পারে।
কমেন্টে আপনার মতামত সহ আলোচনা করতে পারেন।
ধন্যবাদ।

No comments

Powered by Blogger.