নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে তিনবার প্রতিপক্ষের স্কোরবোর্ডে সাত শ রান দেখতে হয়েছে বাংলাদেশকে

নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে তিনবার প্রতিপক্ষের স্কোরবোর্ডে সাত শ রান দেখতে হয়েছে বাংলাদেশকে
  বিদেশের মাটিতে এমন উদাহরণ এই প্রথম
ঘরের মাঠের তুলনায় প্রতিপক্ষের মাটিতে লড়াই সব সময়ই কঠিন। টেস্টে বাংলাদেশ দলের রান দেওয়ার হিসাব কষলে এ কথা মেনে নিতে কষ্ট হবে! ঘরের মাঠে যে দুবার এর ‘শিকার’ হয়েছে বাংলাদেশ, সে তুলনায় প্রতিপক্ষের মাঠে আজই প্রথম।

বলা হচ্ছে ‘ক্লাব সেভেন হান্ড্রেড’-এর শিকার হওয়া নিয়ে। টেস্ট ক্রিকেটে ১৯ বছর পার করছে বাংলাদেশ। এ সময়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে এক ইনিংসে ন্যূনতম ৭০০ রান করার ঘটনা ঘটেছে তিনবার। আগের দুবারই বাংলাদেশ এই ভোগান্তির শিকার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আর এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের স্কোরবোর্ডে অসহায়ের মতো ৭০০ রান উঠতে দেখল বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে এই প্রথম প্রতিপক্ষ দলের কোনো ইনিংসে ন্যূনতম ৭০০ রান হজম করতে হলো বাংলাদেশকে।


বাংলাদেশ প্রথম এই ভোগান্তির মুখ দেখেছে ২০১৪ সালে। ঢাকায় ৬ উইকেটে ৭৩০ রান তুলে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল শ্রীলঙ্কা। আজ হ্যামিল্টন টেস্টের মতো সে ম্যাচেও সেঞ্চুরি ছিল তিনটি। আরও মিল—এই ম্যাচে কেন উইলিয়ামসের মতো সেই ম্যাচেও ডাবল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত ছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। এতই যেহেতু মিল তাহলে ম্যাচের পরিণতিও কি মিলে যাবে? সেই ম্যাচে এক ইনিংস ও ২৪৮ রানে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচের গতি-প্রকৃতি তো তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে!

পাঁচ বছর আগের সেই টেস্টের মতো এটিতেও ৬ উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড। স্কোরবোর্ডে উঠেছে ৭১৫ রান। আজ টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ১৭৪। হাতে ৬ উইকেট রেখে এখনো ৩০৭ রানের বিশাল দূরত্বে পিছিয়ে বাংলাদেশ। আজকের পর আরও দুই দিন বাকি হ্যামিল্টন টেস্টের। ইনিংস ব্যবধানে হার তো চোখ রাঙাচ্ছেই।

তবে আশা জাগানিয়া নজিরও আছে। গত বছর চট্টগ্রাম টেস্টেও নিউজিল্যান্ডের (৭১৫/৬) তুলনায় ২ রান কম করে প্রথম ইনিংস (৭১৩/৯) ঘোষণা করেছিল শ্রীলঙ্কা। সেই ম্যাচেও প্রতিপক্ষ দলের তিন সেঞ্চুরি হজম করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। মিলে যেত ডাবল সেঞ্চুরির বিষয়টিও—যদি কুশল মেন্ডিস ১৯৬ রানে আউট না হতেন। বাংলাদেশ ওই টেস্ট শ্রীলঙ্কাকে জিততে দেয়নি। মুমিনুল হকের দুই ইনিংসে দুই সেঞ্চুরিতে ম্যাচ বাঁচিয়েছিল বাংলাদেশ। লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরির সুবাস পাওয়া তিনটি ইনিংসেরও যথেষ্ট অবদান ছিল।

No comments

Powered by Blogger.