অশ্রুপাত


মাহবুবা স্মৃতি




তড়িঘড়ি করে মাইশা বাসে উঠেই পুরো বাসটাতে একবার চোখ বুলিয়ে নেয় একটা ভালো সিটের আশায়কিন্তু সে হতাশ হয় কারণ জানালার পাশে কোনো সিট ফাঁকা নেইকোনো পাগলই যেখানে নিজের ভালো সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায় না, আর সেখানে বাসযাত্রীরা কেন করতে যাবে তা- এই গরমে! মাইশা নিজেও কখনো করতো নাতবে এবার মাইশা দু’টানায় পড়ে যায় কোথায় বসলে ওর জন্য ভালো হবেআজকাল তো বাসে কতো ঘটনাই ঘটছে! মাইশা দেখলো দু'একটা ছেলে ঈশারায় বুঝিয়ে দিচ্ছে পাশে সিট ফাঁকা আছেকিন্তু সে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বয়স্ক কোনো লোকের পাশে সিট ফাঁকা আছে কিনা তা দেখতে গিয়ে বাসের শেষদিক থেকে ২নম্বর সিটে বসা এক ভদ্র মহিলার দিকে ওর চোখ আটকে যায়! অসম্ভব সুন্দরী বলতে যা বুঝায়, তা' তিনিছেলেদের কোনো মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকাটা যৌক্তিক কোনো একটা সংজ্ঞায় ফেলা গেলেও একটা মেয়ে আরেকটা মেয়ের দিকে বেশিক্ষণ তাকানোটা নিশ্চয়ই ভারী অন্যায়! তবে মাইশা তাকিয়েছে অন্য কারণেভদ্র মহিলার চোখ দিয়ে শব্দহীন অবারিত পানি ঝরে যাচ্ছেকিছুটা দ্বিধা নিয়েই সে খুব সাবধানে ভদ্র মহিলার পাশের সিটটায় বসে গেল, পাছে কান্নার ব্যাঘাত ঘটেকারণ ওবিশ্বাস করে কোনো মানুষ যখন কাঁদে, তখন তাঁকে নীরবে কাঁদতে দেয়া উচিৎকান্নার মধ্যে দিয়ে মানুষের যতো অভিমান, রাগ, ঘৃণা, কষ্টও ঝরে যায়অবশ্য বেশি কাঁদলেও সমস্যা!

বাস ততোক্ষণে ছেড়ে দিয়েছেভদ্র মহিলাও সমানে কেঁদে যাচ্ছেনমাইশা কি করবে বুঝতে পারছে নাকেন কাঁদছেন কিছুই জানে না সেনাম কি তা যেমন জানে না, তেমনি কি বলে সম্বোধন করবে সেটাও বুঝতে পারছে না সেতাছাড়া এভাবে বসে থেকে কারো কান্না শুনতেও ইচ্ছে করছে না ওর
"পানি খাবেন?"
ভদ্র মহিলা চমকে মাইশার দিকে তাকায় পরক্ষণেই হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়েনমাইশা পানির বোতল এগিয়ে দেয়ভদ্র মহিলা পানির বোতলটা হাতে নেয় ঠিকই, কিন্তু পানি খায় নাবোতল হাতে নিয়ে বসে থেকে আবার কাঁদতে থাকেন... মাইশা এবার কি করবে বুঝতে পারে নাহঠাৎ' পাশের মহিলা কান্না থামিয়ে বলে উঠে, "তোমার ফোনটা একটু দেয়া যাবে? একটা ফোন করবো"

মাইশা চোখ দুটো একটু বড় করে মহিলার দিকে তাকান আর ভাবতে থাকে ফোন দেয়াটা ঠিক হবে কি'না!
"তুমি নিশ্চয় ভয় পাচ্ছো ফোন দিতে! আমি দিলরুবা বেগমআমার নিজের কাছেই ফোন আছে, কিন্তু যাঁকে ফোন করবো সে আমার ফোনটা আজ এক সপ্তাহ যাবৎ ধরছে নাঅথচ তাঁর সাথে কথা বলাটা আমার খুব দরকারযদি অচেনা নম্বর দিয়ে ফোন দিলে ধরে সে! "দিলরুবার চোখ কয়েক সেকেণ্ডের জন্য চকচক করে উঠেকিন্তু পরক্ষণেই আবার সেখানে হতাশার ছাপ স্পষ্ট হয়মাইশা আর কিছু না বলে ফোনটা বাড়িয়ে দেয় দিলরুবার দিকে
দিলরুবা ফোনের বাটন চাপতে চাপতে শ্লেষ মাখা স্বরে বলে, "ফোনটা দিবো আমার হাজবেন্ড কেদেখি ফোন ধরে কিনা!" চমকে তাকায় মাইশা দিলরুবার দিকেঅনেকক্ষণ রিং বাজার পরও ওপাশ থেকে কেউ ফোন ধরে না
মাইশা জানতে চায়, "ফোন ধরেনি আপনার হাজবেন্ড?"
দিলরুবা না সূচক মাথা নাড়েন

"কিছু কি হয়েছে ওনার? রাগ করে কি ফোন তুলছে না?"
দিলরুবা এবার শব্দ করে কেঁদে উঠেন বাসভর্তি সবাই এদিকে তাকালে মাইশা অস্বস্তিতে পড়ে যায়"আপনি কাঁদবেন না প্লিজ... আবার ফোন করুন ওনাকেদেখবেন, ঠিকই ফোন তুলেছে এবার"
-"দিচ্ছি তো ফোন, কিন্তু কেটে দিচ্ছে বারবার... মাগী নিয়া রংবাজী করার সময় কি আর ফোন ধরতে ইচ্ছে করে!"
মাইশা চমকে তাকায় দিলরুবার দিকেএতোক্ষণ দিলরুবাকে তার শান্ত প্রকৃতির মনে হলেও শেষ কথাটা তার চিন্তার পরিবর্তন ঘটাতে বাধ্য করেকঠিন মনে হয় দিলরুবাকেআবার ভাবে, হয়তো বাস্তবতাই তাঁকে এমন কথা বলতে বাধ্য করেছেতাই সে অবাক হয়ে বলে-
"মানে! আমি কিছু বুঝিনি..."
-"আমার হাজবেন্ড এর নাম সাইফুল ইসলামকলেজ থেকে ওর সঙ্গে আমার পরিচয়৭বছর প্রেম করি আমরা আমাকে প্রচণ্ড রকম ভালোবাসতোএকদিন দেখা না করলে অস্থির হয়ে যেতক্যাম্পাসে হাতধরে কতো ঘুরাঘুরি করেছি, বাদাম -ফুচকা খেয়েছি... হাজারো খুনসুটি... রিক্সায় বসে কতো যে শহরটায় ঘুরেছি, তার শেষ নেইআর সময় পেলেই ওআমার চুলে ফুল গুঁজে দিতোওর কাছে আমার খোলাচুল খুব পছন্দের ছিলআমি হাসলে নাকি মুক্তো ঝরে! আমার মন খারাপ করা একদমই সে সহ্য করতে পারতো নাআর এখন!!" দিলরুবা থেমে যায়কাঁদতে থাকেন নীরবেমাইশা অপেক্ষা করছে পরের ঘটনা শোনার জন্য

কয়েক সেকেণ্ড পর বলেন, "তোমার নামটা জানা হলো নাকি নাম তোমার?"
-"জ্বি মাইশা রহমান"
-"পড়াশোনা করো?"
-"হ্যাঁ.. "
-"কোন ইয়ারে? "
-"এবার মাস্টার্সে.."
-"মাস্টার্সে পড়ো!" দিলরুবা চুপ করে গেলেনতারপর বলেন, "মাস্টার্সে পড়াকালীন একবার কি হয়েছিল শুনো... রিক্সা থেকে পড়ে গিয়ে আমার পা ভেঙ্গে গিয়েছিলহাসপাতালে সাইফুল ডাক্তারের সামনে সে কি কাণ্ড... ডাক্তারের হাত ধরে কান্না," "যেভাবেই হোক আমার দিলকে আজকের মধ্যেই সুস্থ করে দিন স্যার... ব্যথা একদম সহ্য করতে পারেনা"
কথাটা বলে দিলরুবার মুখে লজ্জা ফুটে উঠে"কিছু মনে করো না বোন, আমাকে ভালোবেসে দিল বলে ডাকতোবিয়ের পরও অনেকদিন ডেকেছেহঠাৎ একদিন দিলরুবা বলায় আমি অবাক হয়েছিলামতারপর থেকে ওর মুখে আর 'দিল' নামটা শুনতে পাই নাঅথচ আজ ছয়টা বছর যাবৎ ওর মুখ থেকে 'দিল' নামটা শোনার অপেক্ষা করছি"
-"ছয় বছর আগে কি হয়েছিল আপনাদের মধ্যে?"
-"কিছুই নাআমাদের বিয়ের আজ ১২বছর পূর্ণ হলোপারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়ে হয়আমাদের ১০বছরের একটা ছেলেও আছেনাম আয়ানআমি একটা প্রাইভেট ফার্মে জব করি, আর ওএকটা গভর্নমেন্ট স্কুলের শিক্ষককিন্তু রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে ওর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হয়, যার ফলে ওর জবটা চলে যায়আমার ভাইয়ের চেষ্টায় পরে ওএকটা বেসরকারি স্কুলে চাকরি পায়সেটাই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় আমি আয়ানকে নিয়ে ঢাকাতেই থাকতামআর ওনারায়নগঞ্জেআমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ওর কাছে থাকার কথা বললে  ওআমাকে চাকরি ছাড়তে নিষেধ করেসাপোর্ট দিতো খুব আমাকেপ্রতি বৃহস্পতিবার ওচলে আসতো ঢাকায় কিন্তু হঠাৎ করেই ওর আসা অনিয়মিত হতে থাকেআমি তখনো কিছু বুঝতে পারি নাএকবার ওর কোনো খবর না পেয়ে আমার ভাইকে পাঠাই কোনো বিপদ হলো কিনা দেখার জন্যভাই এসে জানালো বিয়ে করেছে সেআমি মাথা ঘুরে পড়ে যাইদুইদিন হাসপাতালে ছিলামএকটা সময় আমরা মুখোমুখি হইস্বীকার করে ওআমার কাছে সবকিছুক্ষমা চায় আমার কাছেওকে নাকি ফাঁসানো হয়েছে, বিয়ে করতে বাধ্য করেছিল মেয়ের পরিবারআমি মেয়ে তার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলিমেয়েটার বাবা নেইমাকে নিয়ে থাকেএলাকায় ওদের রেপুটেশন খুব বেশি ভালো নয়যাই হোক, সব মেনে নিলামবুঝতে পারলাম মেয়েটার দোষ হয়তো বেশিহয়তো মেয়েটা অপরাধীকিন্তু আমার হাজবেন্ডও সে অপরাধ থেকে মুক্ত ননকারণ যেচে সে গিয়েছিল বলেই ফেঁসেছে, নতুবা হতো নাআর কি! তবে ওএমনভাবে ক্ষমা চাইলো, নিজেকে শক্ত রাখতে পারলাম না মাফ করে দিলাম ওকে"
-"আপনার হাজবেন্ড কি তারপর থেকে মেয়ের কাছেই থাকে?"
-"না, দুজনের কাছেই থাকেকি করবো বলো? আমি তো মেয়ে, বুঝি তো মেয়েদের কষ্ট মেয়েকে ঠকিয়ে কি হবে? জানো, খুব যন্ত্রণা হয় ওযখন মেয়ের কাছে যায়কিন্তু কি করবো বলো? সহ্য করতে হচ্ছে ৬ বছর যাবৎইদানিং তো ওর ব্যবহারও খারাপ হয়ে গিয়েছেযখন তখন মারধর করেতবুও সহ্য করি ওকে"
-"আপনি আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? এভাবে অন্যায়কে মেনে নেয়া তো ঠিক হচ্ছে না"

মাইশার কথা শুনে দিলরুবা বলে, "মুখে বলা গেলেও করাটা অনেক কঠিনমাঝে মধ্যে ভাবি, কিন্তু নিজের কাছেই বারবার পরাজিত হইমানুষটাকে বড্ড ভালোবাসি যে, কি করবো আমি!"
মাইশা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে দিলরুবার দিকেবাঙালি নারীর স্বামী ভক্তটা এতো দৃঢ় যে বর চোখের সামনে হাজারটা অন্যায় করলেও অধিকাংশ মেয়ে সেটা সহ্য করে নেয়ছেড়ে দেয়ার কথা ভুলেও ভাবতে পারে না তারা
হঠাৎ' দিলরুবার ফোন বেজে উঠেআশা নিয়ে তাকায় মাইশা দিলরুবার দিকেকিন্তু হতাশ হয় ও..
 দিলরুবা নিশ্চয় একটু বেশিই হয়ফোনটা ধরে সে
-"জ্বি ভাই আমি পৌছেই ফোন দিবো তোমাকেজ্যামে আটকা পড়ে আছি... নাআমার পাশে বসা এক পিচ্চি মেয়ের ফোন থেকে কল দিয়েছিলাম, কেটে দিচ্ছে... মায়ের শরীর কেমন এখন?...আচ্ছা... ওকে যেভাবেই হোক নিয়ে আসবো আমিচিন্তা করো না"

ফোনটা রেখে এবার পানি খায় দিলরুবা বোতলটা মাইশার দিকে এগিয়ে দেয়
"আমার ভাই কল দিয়েছেভাই' যেতে চেয়েছিলকিন্তু আমি নিষেধ করেছিপুরুষ মানুষের রাগ বুঝোই তোভাই যদি মারধর করে ওকে এলাকার মানুষ ভাইকেও মারতে পারেতাই আমিই যাচ্ছি ওকে নিয়ে আসতেমা গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তিহয়তো আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে করতেই এখন তাঁর আরো খারাপ অবস্থামায়ের ইচ্ছে মৃত্যুর আগে আমার একটা ব্যবস্থা করে যাবেনমায়ের অসুস্থতার কথা জানে সেতারপরও... "দিলরুবা আবার কাঁদতে থাকেহঠাৎ' কঠিন শোনায় তাঁর গলা
"শুনো মেয়ে... তোমার ফোন থেকে নাম্বারটা এখুনি ডিলেট করো"
মাইশা জিগ্যাসু দৃষ্টিতে তাকায় দিলরুবার দিকে
"তুমি কিছু বুঝো না মেয়ে! যে নম্বরে কল দিয়েছি, সে নম্বরটা ডিলেট করোখবরদার ফোন আসলে একদম ধরবে না ফোন তুমি"

মাইশা একটু অপমান বোধ করলেও পরক্ষণেই দিলরুবার কঠিন বাস্তবতার কথা স্মরণ করে ভুলে যায় সেটা
-"নম্বর ডিলেট করে দিয়েছিআপনি এখন যাচ্ছেন কোথায়?"
-নরসিংদীর পাঁচদোনা যাবো, খবর পেয়েছি বউকে নিয়ে ওখানেই আছে সেনারায়নগঞ্জ স্কুলের চাকরি ছেড়ে দিয়ে নরসিংদীর একটা বেসরকারি স্কুলে এখন জয়েন করেছেআমি ওখানেই যাবো এখনতুমি নামবে কোথায়? "
-"জ্বি আমি মাধবদি নেমে যাবোআপনার স্টেশনের ঠিক আগের স্টেশনে "
-" আচ্ছাকিছু মনে করো না বোনঅনেক কথাই তোমাকে বলে ফেললাম তুমি কি কাউকে ভালোবাসো?"
মাইশা সঙ্কোচ বোধ করে, তারপর না বোধক মাথা নাড়ে
"বেশ করেছো, কাউকে ভালোবাসোনিবিয়ের আগে ছেলেরা অনেক স্বপ্ন দেখাতে জানেকিন্তু বিয়ের পর অধিকাংশ ছেলে নিজের বউয়ের উপর থেকে মোহ হারিয়ে ফেলেচোখ খুঁজতে থাকে নতুন মুখ, নতুন শরীর... "দিলরুবা আর কথা বাড়ায় না জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকেমাইশা আর কিছু বলে নাবুঝতে পারে, ওদিকে তাকিয়ে ওনি কান্না করছেনতবে মাইশার মনটা অনেক খারাপ হয়ে যায়কিছুই ভালো লাগে না তারপাশে বসা দিলরুবা নামের মেয়েটি অসম্ভব রকমের সুন্দরি, যে কিনা ৭বছর প্রেম করে বিয়ে করেছে। এতো রূপ সৌন্দর্য নিয়েও দিলরুবা তাঁর বরকে ধরে রাখতে পারেনিসৌন্দর্যই কি পুরুষকে ধরে রাখেবিশ্বাস করতে পারে না সে। নিজের কালো হাতপায়ের দিকে তাকায় সে। আয়না থাকলে মুখটাও দেখে নিতো। শিহরে উঠে মাইশা। দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয় ওর। একটা সুন্দরি মেয়েই যেখানে তাঁর বরকে নিজের কাছে বেঁধে রাখতে পারে না এতো ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও... সেখানে মাইশার মতো কালো মেয়েরা কিভাবে বিয়ের পর হাজবেন্ডকে ধরে রাখবেআসলে কিছু পুরুষের চরিত্রই এমন যে ঘরে বিশ্বের সবথেকে সুন্দরি বউ থাকলেও অন্য মেয়ের উপর এদের নজর পড়বেইমাইশা আর কিছু ভাবতে পারে না। মাধবদি প্রায় চলে এসেছে বাস। এদিকে পাশে বসা দিলরুবা অবিরত তখনো কেঁদে যাচ্ছে। বাসে বসা আশেপাশের লোকগুলো কৌতুহল নিয়ে বারবার এদিকে তাকাচ্ছেমনে হয় খুব সুন্দর একটা দৃশ্য দেখছেন তাঁরামাইশা তাকাতে পারে না ওদিকে। চোখ বন্ধ করে ফেলে সে। ওদের সামনের সিটেই দুটো ছেলেমেয়ে সেই কখন থেকে খুনসুটি করে যাচ্ছে। সম্ভবত নতুন বিয়ে হয়েছে। দুজনের হাতেই মেহেদি দেয়া। ছেলেটার কথা শুনে মেয়েটা লজ্জাও পাচ্ছে.. সুখে আছে তাঁরা। কতোক্ষণ থাকবে কে জানেমাইশার ইচ্ছা সারাজীবনই থাকুক। কিন্তু দিলরুবার কি হবে?সে কি তার হাজবেন্ডকে ফিরিয়ে আনতে পারবে?

বাস মাধবদি স্টেশনে এসে থামে দিলরুবাকে কি বলবে বুঝতে পারে না সে। দাঁড়িয়ে শুধু বলে, "ভালো থাকবেন আপুদিলরুবা ওদিকে তাকায় না। তখনো সে কেঁদে যাচ্ছে। মাইশা আর কিছু না বলে নামার জন্য পা বাড়ায়। যে আশা নিয়ে দিলরুবা যাচ্ছেসেটা যেন সফল হয় মনে মনে দোয়া করে সে। কিন্তু আদৌ হবে কিনা জানে না । যে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে দিলরুবা, সেটার মূল্য পাবে কি না... তা- জানা নেইএকটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে মাইশাতারপর বাস থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করে। পিছনে আর তাকায় না সে। এতো অশ্রুপাত কার সহ্য হয়??





No comments

Powered by Blogger.