রহমান হেনরীর পদাবলি


রহমান হেনরী 



আগুনসন্ত্রাসের উপকথা

জগতে যতদিন মানুষ টিকে থাকছে; আগুনের আলোচনা
অপ্রাসঙ্গিক নয়
পুড়ে যাচ্ছে হরতনের টেক্কা; আর আমি সমুদ্রকে বলছি:
‘‘
জল সর্বদাই অগ্নিনির্বাপকএমন সিদ্ধান্ত:অগাণিতিক’’
ইস্কাপনের বিবি পুড়ছে; আর আমি পৃথিবীকে বলছি:
‘‘
অগ্নিকাণ্ডমাত্রই দমকল বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা ফের
কোন আইনের কথা? ‘’
বক্তৃতায় যতদিন আগুনের কথা থাকছে; প্রকৃত সত্য
লুকিয়ে পড়বে ভস্মকণায়
চিড়তন পুড়ছে না। রুইতন উড়ে যাচ্ছেএকুশ বা
একচল্লিশের দিকে; আর আমি ইমার্জেন্সি কল করছি:
ফায়ার সার্ভিস  সিভিল ডিফেন্সের
প্রদর্শিত নাম্বারগুলোতে,
আর্তনাদ করছে— ‘ইনগেজড টোন


গোলাপ ঝড়

ঝোপের ভিতর নীরব থাকা
শান্তশিষ্ট ফুল
আজকে হঠাৎ বাঁধিয়ে দিলো
বিরাট হুলস্থুল
মধ্যরাতে হুড়মুড়িয়ে, অবাক, অতঃপর
দেখতে পেলামগোলাপ ফুলের ঝড়!
লক্ষ-কোটি তীক্ষ্ম কাঁটা
প্রদীপ হয়ে জ্বলে
একেই বুঝি আকস্মিকের
ট্রম্যাটিকও বলে!
আকাশ ফেটে বিজলি নামে
আগুন-রঙের পাতা
বোবার মুখে বজ্রনিনাদ
রুখবে সে কোন ত্রাতা?
ঝড়ের ভিতর বৃষ্টিলাভা; দুঃসহ উত্তাপ।
শিষ্ট কেন অশিষ্ট আজ? দৈব-অভিশাপ!
 




ভাষা
শুধু এক উপস্থাপনের গুণে, কল্পনাকে যারা ভাবছেপ্রামাণিক সত্য
আর সত্যকেনির্বাধ কল্পনা; তারাই তো প্রকৃত পাঠক!
তাদেরই উদ্দেশ্যে এই রচিত সন্দেহ আজ রেখে যাই
হাওয়াদের অধিকল্প মাঠে। রেখে যাইএই লিপিলিখিত প্রকারে
ভাষা তো তেমন কোনও প্রপঞ্চ না; উপস্থাপনাই হলোভাষা।
এই শব্দাবলী, গান, অব্যয়ধ্বনিসবিশেষ বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে,
কবিতারই চূড়ান্ত বিজয়
নাচের পুতুলে সর্বমনোযোগ কেন্দ্রীভূত হলে, সুতার অস্তিত্ব মূল্যহীন।
একদিন, অদৃশ্য কপাট খুলে যাবে। সারিবদ্ধ কঙ্কালের পায়ে পায়ে
বেজে উঠবেহাড়ের কোরাস;
তখনই তো সত্য আর কল্পনার
সমস্ত সীমান্তরেখা মুছে যাবেযাদুকরী বিস্ময়ের দিকে!
সম্মিলিত মানুষের স্বপ্ন ছিলো জীবনের চেয়ে গাঢ় হাহাকারময়,
সে কথাই সত্য মনে হবে

অতিরঞ্জন
সর্ষেদানা-সত্যকে কেন্দ্রে রেখে, গোল্লা পাকাচ্ছো: মিথ্যায়
ফলে তো, শেপ পেয়েখুব তুলতুলে, নিখুঁত বৃত্তাকার;
এত স্বাদ! লাগছে যেন খাঁটি দুধের ছানায়;
ময়রা বটে হে তুমি, রসভাণ্ডারের শিরোমণি
চেটে-চুষে-কামড়ে, তবু
মিটতেই চায় না: জিহ্বা দন্তকাম
কিন্তু কেন্দ্রে পৌঁছালেখচ, বিস্বাদ ছড়িয়ে পড়েআলজিভে
গোল্লার বিচিটাকে, আরেকটু বাড়াওঅন্তত মটরদানা! শেষ কামড়ে,
বিস্বাদের বিষ ছড়িয়ে পড়ুক: দেহময়; নয়তো সরাও
রসগোল্লার আঁটি। নিকুচি করো, আকৃতির
কে বলে
রসগোল্লা হলেইগোলাকার হতে হবে?

গ্রামীন সংস্কৃতি

সমতল উপত্যকায়এবং ছোটখাটো চরাঞ্চলে,
গাছে গাছে লটকে থাকা মৃতলতার মতো
আটকে আছে: গোলযোগপূর্ণ আবহাওয়া;
কোনওদিক থেকেই কোনও সুসংবাদ আসছে না
গতকালও হতোদ্যম ছিলাম;
আজ হাতুড়িচূর্ণ করছিশব্দপাথর।
আঠা বানানো হবে:
বলা চলে, ফুটোফাটা বুঁজিয়ে দেবার পুডিং...
ঝড়ো হাওয়ার শনশন বাজছেদূরে
জলাভূমি ছেড়ে, এবার,
একটু মধ্যম উচ্চতায় যেতে হবে;
আবারও বানাতে হবে: কাঠের টিনের বাড়িঘর
বানাতে হবে:
আসমান, মেঘ, নক্ষত্রপুঞ্জের ক্ষেত-খামার
 
সুবহে সাদিক
সময় সেটাইযখন সত্য মিথ্যার প্রভেদ থাকে না
কোনও পক্ষ হও বা বিপক্ষ; ধর্ম-চর্চাকারী আস্তিক কিংবা ধর্মের ছিদ্র খুঁজে
নিজেদের অকর্মণ্য আঙুলগুলোকে গুঁজে দেয়া নাস্তিক ব্লগাররাজনৈতিক
আশ্রয়ের স্বর্গে আছো অথবা সোনার বাংলা শ্মশানে; সেটা কোনও ফ্যাক্টর
করে নাতোমরা সবাই ঘুমিয়ে আছো। গোলগুলির শব্দ হয়তো তোমাদের
শ্রবণ অব্দি পৌঁছাতেও পারেনি; কিন্তু ঘটনা যা ঘটবার ঠিকই ঘটে গেছে...
বহুবার একইভাবে বলা সেই গল্পটাকে তোমরা পড়ছো: পত্রিকার পৃষ্ঠায়

একদিন, প্রত্যেকের সামনেই এসে দাঁড়াবে: অনড় সেই হিমশাদা;
কোনও সুরক্ষায়, রাজপথে বা অন্তঃপুরে, রেহায় পাবে না কেউ
অতএব, মৃত্যুর অনিবার্যতা নিয়ে, কোনও বিতর্কই কবির কাজ নয়।
কে আত্মরক্ষার তাগিদে গুলি চালালো আর কে--বা সুরক্ষাবঞ্চিত,
আলিঙ্গন করলো: মৃত্যুকে। অতশত বিচার-বিশ্লেষণের পথে, আমাদের
গতায়াত নয়সে জন্য, বোবা-আন্ধা-কালা বিচারালয়সমূহ রয়েছে;
আমরা শুধুসুবহে সাদিক’-এর বদলে অন্য আরেকটা নাম প্রস্তাব করবো।



No comments

Powered by Blogger.