আকিব শিকদারের পদাবলি


আকিব শিকদারের পদাবলি




সেদিন তুমি আসবে সঙ্গোপনে

সেদিন রাতটা ছিল ফুরফুরে হাওয়ার
সেই কোন বেলা থেকে দখিনা বাতায়নে
অবাধ আনাগোনা ছিল জোনাকি, চাঁদের জোছনার
তুমি আসবে’- এই কথাটিই গুঞ্জরিত মনে

মধুকর যেভাবে বিচরণা ফুলবন মৌচাকে
আমার অশান্ত হৃদয় তেমনি তোমার বাড়ির পথে
ঝিঁঝিঁপোকা সুর তুলেছিল বাঁশবনের ফাঁকে
খেকশিঁয়ালী ডুকরে উঠেছিল লক্ষ্মী পেঁচাদের সাথে

শঙ্খচিল ডানা ঝেরে বসে নিশ্চুপ ঝাউয়ের ডালে
চোখে আমার দেদীপ্যমান বাল্য কৈশোর ঘুড়ি ওড়ানোর দিন
মেঠো ইঁদুরের কিচিরমিচির তুমি আসবে বলে
তোমার সুঢৌল চিক্কন হাত দিগন্তে বিলীন

আজো চাঁদ জোছনা ঢালে কুয়াশার শারদ রাতে
ঝিরিঝিরি হাওয়া নাচে দখিনা বাতায়নে
ঘাসফড়িঙের সরু লেজ আর চড়ুইপাখির পালক হাতে
আমি বিছানায় প্রহর গুনি একাকী উদাস সঙ্গোপনে



বৃথা চেষ্টা
বাগানের ফুলে প্রজাপতি, ধরতে গেলেই উড়ে যায়
চুপটি করে থাকো যদি
প্রজাপতিই বসবে এসে তোমার গায়

সুখের পিছু ছুটে ছুটে
ওরে মন... পারলি না তো ধরতে তাকে!
সবুর করে দেখ্, সুখই এসে খুঁজবে তোকে

তুমি যা চাও হয়তো কভু ঘটবে না তা-
কিন্তু দেখো, যা ঘটে তা ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা বৃথা




তুমি তো এলে না কাছে

তুমি তো এলে না কাছে তুমি তো এলে না
আমার গানের তালে নেচে তো গেলে না
গিটার বেজেছে শুধু
অভিসারে মন ধুধু
আমার সুরের সাথে সুর মেলালে না
আনমনা আমি তাই কাজে মন গেল না
মেঘময় দিনে আজ তুমি তো এলে না

নিঃসীম অলসতা পায়রার পাখাতে
ঝিরিঝিরি জল ঝরে কামিনীর শাখাতে
বিকেল বেলাটি গেল একাকী
পাবো না তোমার তবে দেখা কি
মার্বেল বাঁধা মেঝে তোমার পায়ের ছোঁয়া পেল না
আমার দ্বারের কড়া নেড়ে তো গেলে না
ভেজা পায়ে চুপিচুপি তুমি তো এলে না

ঝুলন্ত টবটাতে ফুটেছিল অর্কিড নিরালায়
তোমার পথের পানে চেয়ে রই অসহায়
রাস্তার গর্তে জমাট জলে
বৃষ্টির ফোঁটাগুলো পলকা তুলে
করিডোরে খুনসুটি আজ হলো না
তোমার চুলের ঘ্রাণ দিয়ে তো গেলে না
হাতভরা রাঙা চুড়ি তুমি তো এলে না




সুখ অসুখ
আকাশচুম্বী এক প্রশ্নবোধক এঁকে দিয়ে তুমি
শুধালে আমায়- ‘ভালো আছো?’
আপাতালাকাশ আশ্চর্যবোধক নিয়েই
বললাম- ‘মুখ দেখে তুমি কী বুঝেছ!’

দুঃখকে তুলে দিয়ে সুখের হাতে হাসলে তুমি-
মুখ কি মনের আয়না?’
ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলাম কপালের চুল আমি-
চোখে চোখ রেখে বলো কিছু কি বুঝলে না?’

এবার তোমার হাসি থেমে হলো ম্রিয়মাণ-
কেন এত কষ্ট পুষে রাখো কপালের ভাঁজে আর বুকে?’
মাথা নিচু হয়ে এলো আমার অজ্ঞাত বেদনায়-
তোমার হাতের পোড়া দাগ দিচ্ছে বলে তুমি নেই সুখে




তুমি কোনটা নেবে...?

আমার হাতে বন্দুক, আমার কপালে রক্ত
তুমি কোনটা নেবে...?
যদি বন্দুক নাও- তুমি হিংস্র ঘাতক
যদি রক্ত নাও- তুমি অপরিণামদর্শী কাতিল

আমার চোখে অশ্রু, আমার ঠোঁটে হাসি
তুমি কোনটা নেবে...?
যদি অশ্রু নাও, তবে তুমি
দুঃখ বিলাসী- মানে আমার প্রকৃত বন্ধু
যদি হাসি নাও, তবে তুমি
দুধের মাছি- মানে সুসময়ের ধাপ্পাবাজ

আমার কপালে ঘাম, আমার দুচোখ লাল
তুমি কোনটা নেবে...?
যদি কপালের ঘাম মুছে দাও শুষ্ক আঁচলে-
তুমি আমার প্রকৃত ঘরণী, আমার অর্ধ-অঙ্গ
যদি রক্তিম চোখে বোলাও হাতের শীতল আঙুল-
তুমি আমার স্নেহশীল প্রেমিকা, রমণযোগ্য ভালোবাসা


No comments

Powered by Blogger.