করুণ রসই শরৎ সাহিত্যে পরিণতি: মুস্তাক মুহাম্মদ

করুণ রসই শরৎ সাহিত্যে পরিণতি
 মুস্তাক মুহাম্মদ


 বাংলা সাহিত্যের অপাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয় (১৮৭৬ - ১৯৩৮) । জীবিকার তাগিদে মায়ানমার গিয়ে ফিরে আসলেন কথার কারিগর হয়ে। গড়ে তুললেন অসাধারণ কথামালা - নিজস্ব এক কথাসাহিত্য জগত। যে জগতে তিনি হলেন অপরাজেয়। কালজয়ী কথামালা পারুর দেবু ( দেবদাস)। মানুষের জীবনের নানা দিক নিয়ে রচনা করলেন কালজয়ী সব চরিত্র। সমাজের বাধা ডিঙিয়েছে খুব কদাচিৎ তার কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো। অধিকাংশ আখ্যানে সমাজেরই জয় হয়েছে। বাস্তবও তাই সমাজের জয়ই হয়। কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রগুলো সমাজের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হলেও তারা আদর্শরূপ ধারণ করতে পেরেছে। পাঠকের সহানুভূতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রায় আখ্যানে নায়কের দুর্বল উপস্থিতি, নায়িকা মানবীয় দিক থেকে উন্নত হওয়া সত্বেও ভোগ করেছে অবর্ণনীয় দুঃখ। অধিকাংশ কাহিনীর শেষে আমাদের হৃদয়ে করুণ রসের জাগরণ হয়। কিভাবে যে তিনি কাহিনীর পরিনতি টানেন তা পাঠকের অপার বিস্ময় ! মৃত্যু অথবা ট্রাজেডিতে পাঠকের অন্তর নরম হয়ে যায়। তার রচনার বৈশিষ্ট্য পরিণতিতে করুণ রস। যে রস আমাদের কোমল হৃদয়ে দাগ না কেটে পারে না। এই দাগ কাটানোর ক্ষমতার জন্য তিনি আমাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন লাভ করতে পেরেছেন। খুব জটিল গাণিতিক পথে না হেটে নিতান্ত মানবিক দিকগুলো আমাদেরকে গভীরভাবে আকর্ষণ করে। শরতের আশ্চর্য ক্ষমতা ছিলো - পরিণতিতে করুণ রসের সঞ্চয় করতে পারা। এই কাজে তিনি বিশেষ পটু ছিলেন। অতি আনন্দের মধ্যেও তিনি সহজে করুণ রসের পরিণতি টানতে পারঙ্গমতা দেখায়েছেন। এইখানেই বাংলার উপনিবেশিক শাষণ - শোষণে - নিপীড়ত তারপর পাকিস্থানের অত্যাচারের যাঁতায় পেষা গরীব - দুঃখী মেহনতি মানুষের একান্ত আপনজন হয়ে আছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। গরীব দুঃখী মানুষকে নিয়েই শরৎসাহিত্য।

 বড়দিদি’র কাহিনীর পরিণতি কি রসে - করুণ রসে । নায়ক সুরেন্দ্রনাথ অনাথ হয়ে হয়ে বিমাতার অত্যন্ত আদয়ে এম. এ. পাশ করেছে খুব ভাল ভাবেই। কিন্তু আসল কাজটি বিমাতা তাকে করতে দেয়নি। স্নেহের আধিপত্যে তিনি তাকে পরনির্ভরশীল করে তুলেছেন। যে ক্ষতি তিনি করেছেন তা সমাজের মানুষের কাছে ফাঁকি দিয়ে প্রশংসা পেলেও সুরেন্দ্র জীবন দিয়ে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছে। সে আত্ননির্ভরশীলতা অর্জন করতে পারেনি গল্পের শেষ পর্যন্ত। গাল্পিক শেষ পর্যন্ত তা হতে দেয়নি। সুযোগ ছিল আত্মনির্ভরশীল হওয়ার কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি বলেই গল্পটি সার্থক হয়েছে। আসলে সে যখন বুঝতে পেরেছে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এম. এ . পাশ করেও পরনির্ভশীল হয়ে যখন বন্ধু - বান্ধবের কটাক্ষ বিষ বাণী শুনেছে তখন বুঝতে পেরে বাড়ি ছেড়ে ইস্টিশনে অনাথের মত আশ্রয় নিয়েছে। উকিল বাবা তাকে নিয়ে দুঃচিন্তা করলেও মনে হয় তিনি খুশিই হয়েছিলেন - ছেলের এই আত্ননির্ভশীল - স্বাধীন সিদ্ধান্তে। অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে যখন সে না খেয়ে, আশ্রয়হীন হয়ে ইস্টিশনে ঠেলাগুতো খেয়েছে তখন জীবনের মানে বুঝতে পেরেছে। এখানে কাহিনীকারের সুযোগ ছিল তাকে আত্ননির্ভরশীল নায়েকে পরিণত করা। কিন্তু শরৎ বাবু সেদিকে এক পাও বাড়ায় নি। বরং তাকে সাময়িক স্থান দিলেন জমিদার ব্রজবাবুর বাড়িতে । আর সেখানে আবার জুটিয়ে দিলেন মমতার চাদর বড়দিদিকে। জমিদারের ছোট মেয়ে প্রমিলার গৃহ শিক্ষক হিসেবে সে নিয়োগ পেলো। আবার তার সেই পরনির্ভরশীলতা। জমিদারের ষোড়শী বিধাব কন্যার ( বড় দিদি) উপর তার নির্ভরশীলতা। ছোট খাটো নিজের কাজেও বড়দিদির প্রয়োজন হয় তার । বড়দিদি ও তার মধ্যে নিষিদ্ধ খাঁটি প্রেমের সূচনা হয়।

 বিলাসী গল্পে বিলাসী সমাজকে টপকাতে পারলেও বড়দিদি পারেনি। বড়দিদি বুঝতে পারে সে পরনির্ভরশীল । আত্ননির্ভরশীল হতে এসে আবার সেই স্নেহ -ভালোবাসায় তাকে পরনির্ভরশীল করে তুলছে বেশি করে । বড়দিদি তাকে আত্মনির্ভশীলতা অর্জনের জন্য কড়া কথা শোনাতে বাধ্য হয়। তখন বড়দিদির উপর অভিমান করে বাড়ি ছাড়ে কিন্ত একসিডেন্ট করে। হাসপাতাল থেকে বাবার বাড়ি ফেরত যায়। পরনির্ভরশীল স্বভাব অপরিবর্তিত থেকে যায়। নানা বাড়ির জমিদারী পেয়েও অদক্ষতা - পরনির্ভশীলতা - অপরিণামদর্শিতার কারণে সুখ্যাতির চেয়ে কুখ্যাতি বেশিই জড়ো করে সে । শেষের দিকে বড়দিদির স্বামীর ভিটা নিলাম করে তাকে তাড়িয়ে দেয়। যখন বুঝতে পারে তখন বড়দিদির কাছে ছোটে হাজার বছরের জমানো বুকের ব্যথা নিয়ে। বড়দিদিকে নৌকার মধ্যে পায়ও। তার কোলে মাথা রেখে চিরশান্তিতে ঘুমায়ে পড়ে। নায়ক বার বার আত্ননির্ভরশীল হতে চেয়েও পারেনি। মৃত্যুই তার অনিবার্য পরিণতি হয়েছে।

 ‘দেবদাস’ বাংলা সাহিত্যের প্রবাদতুল্য আখ্যান। বিশ্বে যে’কটি রোমান্টিক আখ্যান প্রেম বিরহ ত্যাগের জন্য এক কথায় মুখে আসে ‘দেবদাস’তার মধ্যে অন্যতম। দেবদাস কেন্দ্রীয় চরিত্র। পার্বতীর সাথে তার শৈশব হাসি আনন্দ, সুখে দুঃখে কেটেছে। এক অন্যের জন্য বহু ত্যাগ করেছে। দেবুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হলে পারুও স্কুল ছেড়েছে। কিন্তু এখানেও সামাজিক পারিবারিক বাধা। দেবু কলকাতায় পড়তে চলে যায় কিন্তু মন থাকে পারুর কাছে। পারিবারিক কারণে হাড়ীপোতার জমিদার চল্লিশ বছর বয়েসী ভুবন মোহনের দ্বিতীয় স্ত্রী হয়ে পারু চলে যাওয়রি মদ্য দিয়ে তাদের বাহ্যিক বিচ্ছেদ হয়। কিন্ত অন্তরে গভীর টান রয়ে যায়। দিনে দিনে যে টান আরো গভীর হয় । দেবু কলকাতায় ফিরে নর্তকী চন্দ্রমুখির কাছে মদ খেয়ে পড়ে থাকে। কিন্তু চন্দ্রমুখির রূপ তাকে কাবু করতে পারেনি। বাড়ির ভাগের ভাগ যা ছিল তা বেচে ফেলে। শেষে শারিরিক অবস্থার অবণতি হলে দুযোর্গপূণ রাতে পারুর উদ্দেশ্যে ছোটে । পারুর বাড়ির পাশে গিয়ে এক গাছ তলায় মৃত্যু বরণ করে দেবু । কারণ পারুকে কথা দিয়েছিল - মরারা আগে শেষবার তাকে একবার দেখা দেবে। সে কথা রাখতে দেবুর এত দূর ছুটে আসা। এখানে পারু - দেবুর শেষ মিলন হলে কি ভাল হতো? বিচ্ছেদ এবং চিরবিদায়ই ভাল হয়েছে। সেই মৃত্যু যা আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে দুঃখের বাতাস ছড়িয়ে দিয়ে স্থায়ী আসন লাভ করে। দেবু পারুকে কথা দিয়েছিল শেষ দেখা দিতে আসবে। শেষ দেখা দিলেও নিজে আর দেখতে পারেনি। দেবুর মৃত্যুই যেনো অনিবার্য। তার বাঁচার চেয়ে মরাই শ্রেয়। মরেই সে প্রমাণ করলো সে মরে নাই। “ মহেশ” ছোট গল্পে মহেশ একটি ষাঁড়ের নাম। হতদরিদ্র গফুর মিয়া তাকে পুত্র ¯স্নেহে লালন পালন করে । নিজের ঠিক মত খাওয়া জোটাতে পারে না তবু মহেশের জন্য তার গভীর দরদ। নিজের খাবার মহেশকে দিয়ে মেয়ের কাছে লুকায়। সেখানে আবার মহেশের খাবার । ক্ষরায় চারদিক হাহাকার। তেমন হাহাকার মহেশের জন্য গফুরের । গফুর উপায় না পেয়ে মহেশকে বেচতে গিয়েও বেচে না। মহেশ ছাড়া পেয়ে বাগান নষ্ট করেছে এ জন্য তর্কারঙকার ঠাকুর নালিশ করেছিল জমিদারের কাছে। সেবার উদ্ধার পেলেও শেষে গফুর মহেশের করুণ পরিণতি দেখতে না পেয়ে তার মাথায় বাড়ি দিয়ে মেরে ফেলে। গফুর বাড়ি ছেড়ে পাটের কলে কাজ করতে চলে যায়। এখানেও মৃত্যু বিচ্ছেদ আমাদেও আপ্লুত করে। “বিলাসী” ছোটো গল্পে অনাথ মৃত্যুঞ্জয়কে নিশ্চিত মৃত্যু হাত থেকে বাঁচায়ে বিলাসী নব জীবন দান করে। এ যেনো বেহুলার মত! অন্নপাপের জন্য মৃত্যুঞ্জয় সমাজচ্যুত হলেও বিলাসীকে বিয়ে কওে একটু সুখের মুখ দেখেছিলো । ভালো কেটে যাচ্ছিল তাদের সংসার । একদিন সাপ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হয়্। বিলাসীও সে ধাক্কা সাতদিনের বেশি সইতে পারেনি। মৃত্যুঞ্জয়ের মত চলে গেছে পরপারে। মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুতে বিলাসীর মৃত্যুকে অনিবার্য করে তোলে। দেড় মাস অসুস্থ্য থেকে বিলাসীর প্রচেষ্টায় মৃত্যুকে জয় করতে পারলেও প্রকৃতির হাত থেকে আর বাঁচতে পারলো না আমাদের মৃত্যুঞ্জয়।

 অরক্ষণীয়া” তে বাবাকে হারায়ে জ্ঞানদা মা দুর্গামনিকে নিয়ে কাকার আশ্রয়ে থাকে। অতুলের সাথে জ্ঞানদার প্রণয় থাকলেও সমাজের চাপে তা সার্থকতা লাভ করতে পারেনি। নানাবিধ চিন্তায় জ্ঞানদা অসুস্থ্য রোগা পটকা হয়ে যায়। কাকা - মামারা বিয়ে জন্য ঘাটের মরা পাত্র ঠিক করলেও শেষ পর্যন্ত জ্ঞানদার আর বিয়ে হয় না। জ্ঞানদাকে সহ্য করতে হয়েছে কাকা - কাকির দেওয়া মানষিক অত্যাচার। আর সমাজতো আছেই আইবুড়ো কুমারী মেয়ের পেছনে। মায়ের মুখে অগ্নি দিয়ে ফেরার সময় অতুল জ্ঞানদার হাত ধরে । আমরা মনে করলাম, মিলন বুঝি হল। নায়ক বুঝি সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সমাজকে পরাজিত করে প্রেমের জয়মাল্য জ্ঞানদাকে পরায়ে ঘরে তুলল । কিন্তু বিধি বাম , সে হাত আবার ছেড়ে দেয় সমাজের রক্তচক্ষুর ভয়ে। বিচ্ছেদ ! অতুল পারত কি বাবা মা মরা জ্ঞানদাকে ঘরে তুলতে? শেষ পর্যন্ত পোড়খাওয়া প্রেমিকা জ্ঞানদার আশা ছিলো। কিন্তু অতুল পারেনি। দুর্বল অতুল হেরে গেছে। জয় সমাজ ! জয় স্থুল প্রথা ! “চন্দ্রনাথ”এর কেন্দ্রীয় চরিত্র বি. এ. পাশ করা চন্দ্রনাথ। বাবার মৃত্যুর পর কাশীসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করে। কাশীতে হরিদয়াল ঘোষালের বাড়িতে আশ্রয় কালে কাজের লোক বিধবার এগার বছর বয়েসী কন্যা সূর্যবালার রূপে মজে তাকে বিয়ে করে। বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সংসার পটু মেয়ে সংসার স্বামী নিয়ে বেশ গুছিয়ে ওঠে। কিন্তু সুখ কি আর সহে হে! করুণ পরিণতি তো আসবেই এটা যে শরৎচন্দ্র সংবিধান। রাখাল নামে সূর্যবালার মায়ের প্রাক্তন প্রেমিক ( অভাবের দায়ে - কূল কিনারাহীন হয়ে নিষিদ্ধ দেহ ব্যবসা করতে সমাজ বাধ্য করেছে) তার কুকীর্তি ফাঁস করে দেয়। এমনিতে সংসারে মামী ছিলো সুর্যর প্রতিদ্বন্দী। বারবার মামীর অন্যায়কে পরাস্ত করতে পারলেও এবার আর সূর্য পারল না। পতিতার মেয়ে বলে তাকে বড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। রাখালকে চন্দ্রর খুড়া মনিশংকর ব্লাকমেলের টাকা দিয়ে বুদ্ধির প্যাচে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। তার দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়। সূর্য মায়ের আশ্রয় হরিদয়াল ঘোষালের বাড়িতে গিয়ে তাকে খুঁজে পায়নি। আবার সেখানে অশ্রায়ও পায়নি। এই সময় ত্রাতার ভূমিকা নিয়ে আসে হরিদয়ালের খেলার সাথী কৈলাসচন্দ্র্ । সন্তানসম্ভবা সূর্য নতুন আশ্রয়ে বিশু নামক একটি ছেলে শিশুর জন্ম দেয়। কৈলাস তাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করে। কৈলাস দাবা খেলতে দাদাভাই বিশুকে সাথে করে নিয়ে যায়। কিন্ত দু’বছর যেতে না যেতেই চন্দ্রনাথের ভুল ভাঙে। সে বধুকে ঘরে তুলে নেয়। এখানে থামলে একটি শুভ মিলনে গল্প শেষ হত কিন্তু না শরৎবাবুর সংবিধানে তা নেই। । বুড়ো কৈলাশ এবার একাকিত্ব অনুভব করতে থাকে। বিশুকে হারায়ে সে যেনো তার চারপাশ এমনকি নিজের জীবনের সব কিছু হারায়ে ফেলে। কৈলাশের হাহাকার আমাদের বুকে করুণ রসের উদ্রেগ করে।

এখানেও করুণ পরিণতি। “বিলাসী ” গল্পে সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখায়ে বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে জয় করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত সাপের কামড়ে মৃত্যুজ্ঞয়ের মৃত্যু হয় । সপ্তাহ পেরেনোর আগেই বিলাসীও যায় মৃত্যুঞ্জয়ের সন্ধানে। কি পরিণতি না টেনেছেন শরৎবাবু! শরতের সংবিধানে করুণ পরিণতি হচ্ছে মূল বৈশিষ্ট্য। নায়কের দুর্বলতায় সব জায়গা সমাজপতিরা জয় লাভ করেছে। কিন্তু অতি মানবীয় ভাল মানুষের এই সব করুণ পরিণতির জন্য বোধ হয় সেগুলো পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিতে সক্ষম হয়েছে। নায়িকারা ভাল মানুষ তবু তারা ভোগ করে নির্মম নিয়তি আর সমাজপতিদের অত্যাচার। নায়কেরা যদি শক্ত হত তাহলে কি হত পরিণতি? হয়তো উল্টোও হতে পারত। কিন্ত তেমন সুযোগ শরৎবাবু কাজে লাগাননি। বিচ্ছেদ, মৃত্যু দিয়ে তিনি সাজিয়েছেন তার কথা সাহিত্যের পরিণতি। সে জন্য পাঠক হৃদয়, সব সময় কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর জন্য আপ্লুত হয়। করুণ পরিণতি মানুষের সহানুভূতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। শরৎ কথাসাহিত্য যুগ যুগ ধরে পাঠককের এমন সহানুভূতি আদায় করতে সক্ষম হবে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

No comments

Powered by Blogger.