নাসরিন সিমির পদাবলি


নাসরিন সিমি


পৌরাণিক কাব্য
পুরুষবেশধারী অহং সম্রাজ্ঞী
মানবপ্রেমের চেয়ে বেশি ছিল
প্রগাঢ় অন্ধকারে থাকা মোহ
দেবতার সন্তান রূপে আত্মাপ্রচার
বলেছো নপুংসক পিতা, ভ্রষ্টা মাতা
দেবতার মিথ্যে লালসার সন্তান তুমি
তুমিই উত্তরাধিকার সকাল ক্ষমতার
মাতৃজঠর কলঙ্কিত করে দম্ভে, দণ্ডে
নিষ্ক্রিয় করেছো প্রতিদ্বন্দ্বী সকল
সুনিপুণ কন্ঠের ধ্বনি তোমার চিৎকার
আমি দেবতা আমেন এর সন্তান।
আমি একমাত্র দেবতার বংশের নারী
আমি উত্তরাধিকারী হাপশেতসুত!!
সম্রাজ্ঞী হাপশেতসুত!!আমি দেবী

পাপ প্রেমের সঙ্গম
চোখদুটো যাদুর মতো টানে
অবশ করে দেয় ভেতরের মন
কী টের পায় সে অনাগত প্রেমিক
হাজার দৃষ্টি প্রতিদিন গিলে খেতে চায়,
হাজার অঙ্গুল স্পর্শ করতে চায় কামনায়,
সরীসৃপ দেখার মতো ঘৃণা জমে বুদবুদ করে
বিতৃষ্ণা ঘিরে ধরে যেন এক কুচকুচে উভচর
অদৃশ্য ঘৃণার দেয়াল আমাকে আবর্তন করে
তোমার চোখে ভ্রমে-বিভ্রমে দেখি পুরাণের
একশো আটটা নীল পদ্ম ফোটা সরোবর
সাঁতার কাটি ইচ্ছে করে মানস সরোবরে
সমর্পিত হতে ভেসে যায় মেঘের ভেলা
বুকেরই ভেতরে অনুভব করি তৃষ্ণা
শত সহস্র বছর অপেক্ষায় ছিলাম
আরো এক শতাব্দীর প্রতীক্ষায়
পাপ প্রেমের সঙ্গমের জন্য

ফেসবুকে জেগে থাকা-১
 মগজের কোষে কোষে রিনরিনে শব্দের খেলা
রাতভর জেগে আমি শব্দের সাথে খেলা করি
শব্দ পড়ি, শব্দ লিখি, শব্দের সম্পাদনা করি
তারপর সেই শব্দের সাথে খেলতে খেলতেই
শব্দ সাজানোয় একজন খেলোয়াড় হয়ে যাই
ধীরে ধীরে আমার সেই শব্দের খেলার মাঠ
কিছু পরিচিতি কয়েকজন দর্শক হয়ে যায়
শব্দের খেলাটাকে কেউ কেউ কবিতা বলে।
আর আমি বলি আমি শব্দ নিয়ে খেলা করি

ফেসবুকে জেগে থাকা-
মগজের কোষে কোষে রিনরিনে প্রেমের খেলা
রাতদিন ভর শুধু ফেসবুকে চ্যাটিং এর মেলা
রাত জেগে ভিডিও কল, প্রেমিকার জন্য তনুমন
আদুরে আহ্লাদে কতো কষ্ট বেদনার মায়া কান্না
সোহাগে আদরের ডাক তুমি আমার সেতু তুমি
আমার সুস্মিতা তুমি আমার নিশিতা সুমাইয়া
শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে ভালোবাসার জন্য শপথ।
কতো অভিমান, পহেলা বৈশাখে পরা হলুদ শার্ট
কথা রাখেনি প্রিয়া পরেনি তার জন্য কেনা শাড়ি
তাই নিয়ে অভিমান, নিজেকে গুলি করার বাসনা
মান অভিমান কাটাতে ভিডিও চ্যাট হু হু করে
কেঁদে কেঁদে বুকের প্রেম উজাড় করে দিয়ে দেয়া।
এই যে প্রেম এই কামনা বাসনার নাম ধ্বংস

ফেরারী সময়ের কাব্য

প্রতি মধ্যরাতে মরে যাই একটু একটু করে
বুকের ভেতর জেগে ওঠে শৈশব অথবা
আজন্মকালের ভুলগুলোর যন্ত্রণার কাঁচ
আমার হৃদয় কেটে কেটে করেছিল খুন
ঘুমের মধ্যে এসে জাপটে ধরে ইবলিশ
আমি ভয়ার্ত চোখে ঝাপসা দেখি সব
পৃথিবীটা সাহারা মরুভূমি হয়ে যায়
দাঁড়িয়ে থাকি ঠিক তার মধ্যেখানে
আমাকে ঘিরে আবর্তিত হয় জীবনের
যতো ভুল যতো উলুবনে ছড়ানো মুক্তা
আমি স্বপ্নের ভেতর দেখি কালো চাঁদ
আমাকে তাড়া করে ফেরে তেইশ বছর
যেখানে ছিলো শুধু করুণার খামখেয়ালি
সিংহচোখে দৃষ্টির শাসনে বাঁধা শৃঙ্খল
কবিতা লেখার হুলিয়া জারি করে বাঁধা
আমার অস্তিত্ব আমার বেঁচে থাকার ইচ্ছে
ঘুমের ভেতর সব তাড়া করে ফেরে নির্দয়ে
তারপর একসময় জেগে উঠি ঘুম ভেঙে
সকালের সূর্যের আলো এসে বারান্দায়
ডেকে নিয়ে বলে বেঁচে থাক শৃঙ্খল ভেঙে

জাল

দেয়ালের গায়ে মাকড়সার জালে আটকে আছে
থেঁতলানো টিকটিকির লেজ
ঝকঝকে পেইন্টের ওপরে টিকটিকির পায়ের ছাপ
মনে করিয়ে দেয় একদা চাঁদে হেঁটেছিলো
নীল আর্মস্ট্রং
বেঁচে থাকলে মুখোমুখি হয়ে জানতে চাইতাম
নীল তোমার সাথে দেখা হয়েছিল চাঁদের বুড়ির
চরকাটায় জং ধরে গেছে নাকি যুগ যুগান্তরের
রূপকথার মতো সেও চলছে অন্তহীন গন্তব্যে
আমরা সবাই একদিন ঝুলে থাকবো জালে
জাল কেটে টিকটিকির লেজটা খসে পড়ছে ভূমিতে
কিন্তু আমরা যে যার মতো করে আটকে গেছি
অদৃশ্য কোন জালে বেরোতে পারছিনা কোথাও

Top of Form
Bottom of Form


No comments

Powered by Blogger.