কপোতাক্ষ পাড়ের পদাবলি



এতোদিন পরে

মুস্তাক মুহাম্মদ


এতাদিন পর - আবার এলে
দেখা হলো!
উপচে পড়া ভাষা এখন ভাষাহীন
 কি মনে  করে
ঝরা ফুলে মালা গাঁথা যায়-
শুকনো ফুলে কি যায় ?
ছলছল চোখ -আজও কি দেখোনি
পাওনি...

তবে হারায়ে পেয়োছো
যখন সংসার শিকলে বাঁধা
তবু বলি, আজও হয়তো পেলে না

নির্বাক নির্লিপ্ত  চাহনি তোমার
ভাল থাকো -  ভাল আছি ,
কারোর ভাল থাকার একজন হয়ে  


 মা

কওছার আলী গোলদার

মা
তুমি
আমার
সুখ পাখি
পৃথিবীতে তুমি আমার
নয়নের শীতলতা
স্নেহ দিয়ে
আগলে রাখো যতনে
শত্রু থেকে লুকিয়ে রেখে
করেছো বড়, পথ চলায়
শিখিয়েছো ভয়হীন দৃঢ় থাকার বুলি
আগলে রেখেছো বুকের মাঝে
যতে ঘাটতি ছিল না
ময়লা মাটি গায়েও
তুমি তুলে দিয়েছো খাদ্য
মমতায়
তোমার ঋণ
ভুলতে পারি
আমি কি তেমন সন্তান?



বৃষ্টি আসে আমার দেশে

মো. আব্দুল কাদের


 রিম ঝিমিয়ে বৃষ্টি নামে
 আষাঢ় শ্রাবণ মাসে
প্রাণ ফিরে আসে তরুলতায়
মাঠের মরা ঘাসে

বৃষ্টি ঝরে মিষ্টি সুরে
হাওয়ায় দুলে দুলে
কেয়া কদম গাছগুলো
ভরে  ফুলে ফুলে

হৃদয় ব্যাকুল হয় যে শুধু
গাইতে পরান খুলে
মন চাহে যে ময়ূরসম
নাচতে পেখম তুলে

বৃষ্টি নামে ধানের ক্ষেতে
সবুজ বরণ গাঁয়
কিষাণবধূ হাসি মুখে
মাঠের পানে চায়

ঘন কালো মেঘের কোলে
বিজলী খেলা করে
গুরুগম্ভীর  দেয়ার ডাকে
পরাণ কাঁপে ডরে

বৃষ্টি নামে টিনের চালে
বাজিয়ে নুপুর পায়
 রাখাল ছেলে চরায় ধেনু
আদুল করা গায়

বৃষ্টি ঝরে ছন্দ তালে
কালো মেঘের ছাঁয়ে
মনটা ছোটে বৈঠা হাতে
চড়তে ডিঙি নায়ে

বৃষ্টি ঝরা নদীর  কূলে
নৌকা বাঁধা ঘাটে
দূর গগনে আঁধার নামে
সূর্য যখন পটে

ছয়টি ঋতুর এমন দেশে
বৃষ্টি আসে ফিরে
নদী নালা পুকুর ডোবা
ভরে  অথই নীরে

শাওন রাত মেঘের বুকে
লুকায় যেন চাঁদ
বৃষ্টি আসে আমার দেশে
নিয়ে আর্শিবাদ


মায়ের  স্মৃতি 

মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ

স্মৃতির সাগরে চেযে দেখি মায়ের কোমল ছায়া
সাজানো গোছানো বাড়ির আঙিনা আমার পরম পাওয়া
বাবা চলে গেলে মা আমার বাড়ির আঙিনাখানি
রেখেছে কত যতনে তা আমরা জনা জানি?
আমার বাড়ির আঙনায় সব সময় যে মাকে দেখি
তিনি আমার চাঁদ সুরুজ আলো বায়ু আরো কতো কী?
গোলার পাশে ফুটে থাকে লাল গোলাপ আর জবা
 পুকুর ধারে  পা বাড়ালেই্ পদ্মর সুবাস পাবা
আর একটু এগুলে দেখতে পাবে হাসনাহেনা ফুল
তারার মতো ফুটে আছে সুগন্ধি বকুল
বাড়ির আঙিনা ছিল যে কতো স্বচ্ছ পরিপাটি
মা- জননী সামলাতেন যাবতীয় খুঁটিনাটি
দক্ষিণ পাশে শিউলি নিম অর্জুন আমলকির সারি
হরেক রকম বাগ বাগিচা তাল নারকেল সুপারি
আম জাম লিচু কাঁঠাল  যত আছে মৌসুমি ফলের গাছ
পুকুরে ভরা থাকতো সব সময় নানা প্রজাতির মাছ
পুকুর পাড়ে শাক সবজি কয়েক রকম খামার
সব কিছু তদারকি করতো প্রিয় মা আমার
 দিন হলো মা জননী বাড়ির আঙিনায় ঘোরে  না
পাক  পাখালি গাছ গাছলি তিনি যে আর দেখে না
মা নেই বাড়ির আঙিনায় পাখিরা কিচির মিচির করে না
তাই তো আমরা যতই ডাকি মা যে আর ডাক শোনে না

 শাদা প্রেমিক

 এম এম নজরুল ইসলাম              

 নিয়ম ভেঙে যাও তুমি অনিয়মের আগুন
 সময় ছুঁয়ে জোড়া লাগাও ছন্নছাড়া ফাগুন
দুঃখগুলো মুঠোয় ভরে উড়িয়ে আকাশে
আলো নিভায় আধার আনো নিঝুম বাতাসে
চোখের জ্বলে দুঃখ সেরে সাগর চুষে খেলে
হৃদয় দিয়ে পাথর মেপে কি সুখ তুমি পেলে!
আশার তরী ডুবায় দিলে প্রবল ঢেইয়ের ভয়ে
স্বপ্নগুলো নিঃস্ব হলো ভুল ভাবনায় ক্ষয়ে
দুটি মনের দুটি কুঁড়ি দুটি প্রেমের জ্যেতি
এক রাশিতে মিলতো যদি হতো কিবা ক্ষতি
ঝড়ের রাতে ঢেউ ছিলনা ছিল একটি পাখি
অহনিশি পাবার আশায় করতো ডাকাডাকি
সবুজ সংকেত দিয়েছিল গোলাপ হেসে হেসে
 পাঠিয়ে কেনো দাওনি দ্বিধা সুদূর চাঁদের দেশে
আমার বুকের সকল জমিন তোমার বসত ঘর
সোনার ভুবন আলো কওে থাকতে জীবন ভর

শুন্য ললাট  ভরিয়ে দিত প্রনয় দিয়ে বিধি
বুঝতে যেদিন খুঁজতে সেদিন তখন থাকবেনা তিথি
সারা জীবন থাকতাম  হয়ে তোমার প্রতিনিধি
 শাদা প্রেমিক শাদা কাফন হবে তোমার স্মৃতি


 মেঘলতা

মো. আলমগীর হোসেন হিমেল

বৃষ্টি পড়ে গুড়ি গুড়ি             
আমরা দুজন
মেঠো পথে পা পিছলে পড়ি

জেসনার আলোয় দেখি তারে
জলভরা দুটি চোখে
টলমল চোখ তার
বিদায় বেলার অব্যক্ত কথা চেপে

সে বলল, ভালবাসি তোমোরে
জীবন থাকতে ভুলবো না ,
 কথা দিলাম, চাঁদ স্বাক্ষী
আজ থেকে হলাম ভালবাসার রক্ষী

শুন্য জীবনে
আধার ঘরে
সবাই যদি ভুল বুঝে চলে যায়
 মেঘলতা কথা দাও -
তুমি হবে আমার আমরণ সাথী


*কপোতাক্ষ পাড়ের পদাবলি’র কবিগণ যশোর কপোতাক্ষ সাহিত্য পরিষদের সদস্য। 





No comments

Powered by Blogger.