বাপ্পা আজিজুলের পদাবলি


বাপ্পা আজিজুলের 'প্রাক্তনী সিরিজ' থেকে ১০ টি কবিতা




.
শাপে বর হয়। অতএব, প্রাক্তনীদের বেশি বেশি অভিশাপ দিন। বর পেয়ে তারা সুখী হউক।

২.
উপকারীর উপকার স্বীকার করে না যে- প্রাক্তন প্রেমিকা। তাদের অপরিমেয় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাওয়া বেচারা প্রেমিক আজ দেউলিয়া। পুঁজিবাজারের মতই ধ্বস নেমেছে বাপের হোটেলে। বেকারত্বের সূচক বেড়েছে। বেড়েছে ডিপ্রেশনের রোগী। মহামারীর মতোই বেড়েছে সুইসাইডের উপদ্রব। খোঁচা দাড়ির তরুণ কবির সংখ্যাও বেড়েছে ঢের।

.
সুন্দরীদের সাথেই প্রতারণা শব্দটি যায়। তারা এতে দারুণ অভ্যস্ত। বলা বাহুল্য, জগতের সকল প্রাক্তনী এক একজন সুন্দরী। ওয়ান এন্ড অনলি পিস। সো মিস্টার রোমিও, ভাবিয়া কাজ করিও।

৪.
প্রাক্তন প্রেমিকাদের জন্য এলিজি নয়, নয় মর্সিয়া। তাদের উৎসর্গ করো রণসঙ্গীত। এযুদ্ধে তোমাকে জিততেই হবে পুরুষ। এতো হাজার বছরের ক্রুসেড। ইতিহাসের তামাম প্রেমিকদের রক্তের লিগ্যাসি। ওঠ!

৫.
অবজ্ঞা উপেক্ষা শব্দ দুটি তোলা থাক প্রাক্তনীদের জন্য। এই তাদের প্রাপ্য। সহানুভূতি নেই তাদের ভাগ্যে। যারা জীবনে পোড়েনি, তাদের আবার জীবনবোধ  কী? জীবনের ঐশ্বর্য যারা খুঁজে পায়নি তারা মানবীর কাতারে দাঁড়াবে কী করে? সো, গো টু হেল!

৬.
জনাবা প্রাক্তনী,
আড়ি নাও সে পুরুষের সাথে যে ভালোবাসার নামে চাপিয়ে দেয় কন্ট্রাসেপ্টিভের বার্ডেন। আসলেই কী সে তোমায় ভালোবাসে? দুনিয়ার তাবৎ প্রেমিকেরা যে তাজমহলের বড়াই করে তার অন্তরালের ইতিহাস তো তোমার অজানা নয়।
অথচ যে লম্পট কপট ভালোবেসে চম্পট দেয় তুমি তারই পাণিপ্রার্থী হলে ভেস্তে যায় নিকট আসমানের সুরক্ষা। দুনিয়ার বুকে অঝোরে নামে উল্কা।


৭.
হাতের সব আঙুল সমান হয় না। তেমনি সব প্রাক্তনীও সমান নয়। কেউ বুকে পুষে রাখে প্রচণ্ড ঘৃণা, কারও পেট ফেঁপে থাকে হিংসায়। কেউবা দেখেই দেখে না। কেউ দেখলে না চেনার ভাণ করে মুখ লুকোয়। কতেক এগিয়ে এসে হাই-হ্যালো করে। দুএকজন তাদের সুখের আখ্যান শোনাতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কদাচিৎ কেউ গল্প করে। আমাদের কষ্টে সমব্যথী হয়। কিংবা সাফল্যে উচ্চকিত হয়। কে জানে? হয়ত প্যারালাল ওয়ার্ল্ডে আমরা তাদের সাথে দিব্যি সংসার করছি।

.
প্রাক্তন প্রেমিকা- সে বেলা বোস হোক কিংবা রুবি রায়- আদতে কোন তফাত নাই। শক্তির নিত্যতা সূত্রের মতই এরা সার্বজনীন। শুধু রঙ বদলায়, বোল পালটায়, খোলস ছাড়ে। অনেকটা তরলের মত যে পাত্রে যায় তার আকার ধারণ করে। আর আমরা? আর্কিমিডিসের সূত্র অমান্য করে ডুবে ডুবে জল খাই। স্বপ্নের ভেতর হুদাই চিল্লায়ে উঠি- ইউরেকা!  ইউরেকা!

৯.
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে জনৈক প্রেমিক শপথ করেছিল, " খোদার কসম! আমি এই ভূখণ্ডের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটিকে বিয়ে করব। তারপর তাবৎ প্রাক্তনীদের সম্মেলন ডাকব। সবার হাতে দেয়া হবে পিরিচ কাঁটা চামচ। পিরিচে পরিবেশিত হবে আঙুর ধুতরো গোঁটা। এরপর আমার অনিন্দ্য অপ্সরাকে বলব বেরিয়ে এসো 'জান'। যখন সে মঞ্চে উপবিষ্ট হবে ঠিক তখন ঘোষণা করা হবে- ভদ্রমহিলাগণ, আপনারা ফল গ্রহণ করুন। তারপর? যা ভাবছেন তাই। ইউসুফের ঘটনার মতই আমার প্রণয়িনীকে দেখে সকল প্রাক্তনী কাঁটা চামচ দিয়ে ধুতরো গোঁটা মুখে দেবে। এমনকি চিবিয়ে গিলেও ফেলবে"। এরপরের বাক্যটি আপনারা জানেন। সেটি প্রাক্তনীদের প্রায়শ্চিত্তের ইতিহাস।

০.
কেউ বাই বর্ন মহাপুরুষ নয়। এটি যত না সম্মানের বরং ঢের অর্জনের। কখনও সমাজ কারও কারও গায়ে মহাপুরুষের তকমা দেয়। তবে মহাপুরুষ হলেই কেউ পুরুষ অনুসর্গ বাতিল করতে পারেনা। আর তাই মহাপুরুষেরাও কামনার উর্ধ্বে নয়। যে পুরুষ মুখায়বের প্রেমে পড়ে সে সুবোধ প্রেমিক। যোনীর প্রেমে পড়ে চতুর বণিক। মনের প্রেমে হাবুডুবু খায় বেচারা দার্শনিক। আফসোস ওহে প্রাক্তনী! তোমরা দার্শনিককে পাত্তাই দাও না। প্রেমিকদের নিয়ে লুকোচুরি খেলো। আর বণিক? সে তো- খেলারাম খেলে যায়। তোমরা হাদারাম ধরা খাও।




1 comment:

Powered by Blogger.