শাহিন চাষীর পদাবলি


শাহিন চাষীর পদাবলি




শাহিন চাষীর পদাবলি- আগুয়ান - Agooan
শাহিন চাষীর পদাবলি- আগুয়ান




আগুনের বনে

আগুনের বনে দাঁড়িয়ে
আমি কেবল প্রবল দাবদাহ দেখছি
আর জ্বলছি, আর পুড়ছি..
বুকের ভেতর মৃত কথা
পচে পচে ফুলে- ফেঁপে উঠছে,
আমি একাকী কেঁদে যায়--
দুঃসহ প্রসব বেদনায়
আমার চোখের সামনে
হলুদ পাতার মতো ঝরে যায় স্বপ্ন,
দাবার ছকে তটস্থ হাতি, ঘোড়া..
মন্ত্রী চালে বহুমুখী কূটচাল;
মাটির আঁচলে অন্ধকার মহাকাল
আগুনের বনে দাঁড়িয়ে আছি!
নিরাপদ দূরত্বে ওড়ে শকুন চিল,
সম্মুখে পড়ে আছে--
মাটির কঙ্কাল, মানচিত্রের ফসিল


পথিক

অগণিত পথিকের সাথে
পায়ে পা রেখে হাঁটছি, কেবলই হাঁটছি...
অবারাম, অবিশ্রাম হেঁটেই যাচ্ছি!
অজানা জঙ্গল থেকে
দুর্গম পাহাড়ি পথে অচেনা আওয়াজ;
হৃদয়ে আশ্চর্য মায়াময় টান,
ক্লান্ত চরণে দুরন্ত যৌবন
সহসাই মন বাধাহীন পঙ্খীরাজ!
অতিদূর সমুদ্র হতে
বাতাসের বীণায় মন্ত্রময় সুরেলা গান;
নিমেষেই উচ্ছল- চঞ্চল প্রাণ,
অনুভবের তীরে উৎসাহের ঢেউ
দৃষ্টির দ্রাঘিমায় সুখের উপাখ্যান!
নক্ষত্রের শরীর বেয়ে
শ্রমিকের ঘামের মুদ্রায় তরল আলো;
তখন আবেগ উন্মাদ জোনাকি,
চনমনে শরীর জুড়ে
অভিযাত্রীর আভরণ- জমকালো

ক্ষীণ দৃষ্টিতে যা দেখছি,
যা কিছু শুনছি- বধির কানে অনুক্ষণ;
আমার আমিকে একদম ভুলে
কেবলই ছুটছি হতোদ্যম
রেসের উদভ্রান্ত ঘোড়া যেমন!
গন্তব্য ঠিক কোথায়,
কী রয়েছে পথের শেষে-- জানা নাই;
তবুও হাঁটছি, তবুও হেঁটে যাই...


কাছাকাছি

এক সকালে কবিতা লিখিনি,
এক দুপুর কেটে গেছে- শব্দের শূন্যতায়;
একটি বিকেলে বাণী আসেনি,
এক সন্ধ্যায় সুর বাজেনি- অপূর্ব মায়ায়!
যখন রাত্রি ঘণায়--
আগ্রাসী আগুনের ঢেউ- হৃদয় মোহনায়,
দুরন্ত কীর্তিনাশা বিস্তৃত চোখের পাতায়,
করুণ আর্তনাদ- ধাবমান রক্তের কণায়!
যখন কবিতা লিখি,
অস্তিত্ব জুড়েই তোমার নিঃশব্দ বসবাস;
যখন কোন কবিতা লিখি না,
শুধু তোমার জন্যই ব্যথা আর দীর্ঘশ্বাস!
কবিতা এলে--
তোমাকে ছুঁয়ে থাকি ডানপিটে মমতায়,
কবিতা না এলো যদি
মন পুড়ে যায়- অসীম শূন্যতার শিখায়!
আমি এভাবেই বেঁচে আছি
দূরে বসেই তোমার একান্ত কাছাকাছি

হাসির বিষ

আজকাল যখন- তখন
সমস্ত শরীর জুড়ে অদৃশ্য সুড়সুড়ি
একদম এমনিতেই- অকারণ
সে লিখলো,
একটি গরু ঘাস খাচ্ছিল,
হঠাৎ পড়ে গেল বিস্তৃত নদীর জলে;
গরুটি ভেসে যায়
আমি অপলক আকাশ দেখি
কোনখানে তারা নেই, জাগ্রত নীল!
আমি লিখলাম--
সবুজ ঘাসে নিমগ্ন গরু
পা পিছলে সহসা দুরন্ত নদীর বুকে,
উন্মাদ স্রোতে অসহায় চোখ;
আমি দেখলাম অবাক
ভুলের বৃত্তে জীবনের শাশ্বত রূপ!
সে ছিল সবার চেনা,
আমি নবীন কুঁড়ি- অপরিচিত মুখ;
তার শব্দাবলী শৈল্পিক কবিতা
আমি আবাল, মূর্খ- শিল্পের হন্তারক!
আজকাল যখন- তখন
অনুভবে খেলোয়াড় দাঁতাল সুড়সুড়ি,

চারিদিক দালালের নগ্ন আঙুল



No comments

Powered by Blogger.