সিরাজুল ফরিদের একগুচ্ছ ছড়া


সিরাজুল ফরিদের একগুচ্ছ ছড়া





সিরাজুল ফরিদ - আগুয়ান - Sirajul Farid - Agooan
সিরাজুল ফরিদের একগুচ্ছ ছড়া - আগুয়ান





কিষান

আমি হলাম জাত-কিষানের ছেলে
হচ্ছি বড় মাঠের খেতে খেলে
গরুর পিছে লাঙল ঠেল ঠেলে,
বাড়ছে ফসল দেখছি আঁখি মেলে
ফসল ফলাই ফসল তুলি ঘরে
সাজিয়ে রাখি ঘরেই থরে থরে

অঘ্রাণে পেঁয়াজ আসবে



পেঁয়াজের গুণে মুগ্ধ মানুষ
তা ছাড়া কি চলে?
ওর গায়ে যে এত্ত আগুন
উত্তাপে গা জ্বলে
রামকানায়ের কপাল ভালো
পেঁয়াজের গন্ধ সয় না
বাজারে দাম যতোই বাড়ুক
গিন্নি খুশির ময়না
রজব আলীর মন্দকপাল
অন্ধকারে হাঁটে
পেঁয়াজের দামে ঝরছে কী ঘাম!
থাকছে না সে খাটে
কী আর খাবে পেঁয়াজ বিহনে
লবন শুধুই চাটে
ভিম্মি খাওয়ার ভয় তো আছেই
যায় না বাজার হাটে
পেঁয়াজের গরম হয় না নরম
আশ্বিন-কার্তিক মাসে
ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সফল
আনন্দে বউ হাসে
ভেজা মাটির সোঁদা মেখেই
পেঁয়াজে পঁচন গন্ধ
রোজ বাজারে ক্রেতার সাথে
বিক্রেতাদের দ্বন্দ্ব
ক্রেতা সবাই করছে সবুর
অঘ্রাণে পেঁয়াজ অসবে
পাতাসহ কাঁচা পেঁয়াজের
সুবাস নিয়ে হাসবে

প্রভাত



সীমাহীন বিশ্ব-ভ্রহ্মাণ্ড
জাগতিক কী মহাকাণ্ড
ক্রমাগত ঘটে যায়
নানা কথা রটে যায়
নিয়ন্ত্রণের নেই কারো হাত
আন্ধার কাটলেই
সূর্য-প্রভাত

আলো

ভালো না কি মন্দ
মনে মনে দ্বন্দ্ব
হারালাম ছন্দ
চারদিকে গন্ধ গন্ধ গন্ধ,
ভাবছেন নন্দ
পথে খানাখন্দ
চলা পথ বন্ধ
লোকজন অন্ধ অন্ধ অন্ধ
আলো চাই চারদিক ছড়ানো
সূর্যের কড়া আলো ঝরানো


মায়ের দরদ


আসল পুঁজি গচ্ছা দিয়ে
ব্যবসায়ীর কান্না
দুদিন থেকে উপোষ আছে
হয়নি ঘরে রান্না
মায়ের কোলে কান্না করে
ছোট্ট মেয়ে আন্না
ইস্কুলে যায় মলিন মুখে
অবুঝ শিশু মান্না
উপায়বিহীন মা চলেছেন
পরের বাড়ির কাজে
মুখটি কেমন কাচুমাচু
ঢাকনা দেয়া লাজে
মায়ের আদর- ভালোবাসা
তুলনাহীন দেখি
কষ্টে যতই আড়ষ্ট মা
দরদ কি হয় মেকি?


ফিরে আসি জন্মভূমি তীর্থে



ইচ্ছে থাকে মনের ভেতর খুব গোপনে লুকিয়ে
শত কষ্টে, হাজার দুখে যায় না মোটেও শুকিয়ে,
ইচ্ছে হলেই ডানা মেলে পাখির মতোই উড়তে থাকি
সকাল বেলার পাখি হয়ে ডেকে ডেকে শিশির মাখি
ইচ্ছে আমার পঙ্খিরাজে উড়ে বেড়াই দূরে
আকাশ পথে সাত আসমানে যাচ্ছি উড়ে উড়ে
হিমালয়ের শৃঙ্গ অতিক্রমে কী পাই ভয়?
তুষার ধবল গিরি পাহাড় করবো ঠিকই জয়
দেশ বিদেশে ঘুরতে আমার মন করে আনছান
সুখের আবেশ গায়ে মেখে কন্ঠে ছাড়ি গান,
পাখির সাথে সুর মিলিয়ে উড়তে ভালো লাগে
উড়তে গিয়ে আকাশটাকে চাই যে আমার ভাগে
নীল আকাশে উড়তে উড়তে সৌরজগত দেখি
তারার বাগান পাড়ি দিতেই সামনে দেখি কী?
সৌরজগত হচ্ছে বিলীন মহাকাশের গর্তে
ভয় পেয়ে যাই, ভাবছি তখন যচ্ছি কি না মরতে
নিজকে নিজেই শাসন করি মায়ের কাছে ফিরতে
তড়াস করেই ফিরে আসি জন্মভূমি তীর্থে


ঘৃণা

কাকে তুমি ঘৃণা কর,
মানুষ না পশুকে
জানি তুমি সুখি নও
প্রচণ্ড অসুখে
মানবতা পরাহত
বাঁচা মরা সার
চারদিকে বৈরিতা
জানি তা অপার
মানুষের আচরণে
পশু-পশু স্বভাব
দয়াহীন নিষ্ঠুর
মানবতা-অভাব-
ঘৃণা আর তুচ্ছতা
প্রাপ্য যে তার,
উত্তম মানুষের
হোক সংসার


জয় হোক ভালোবাসার



ভালোবাসার নেই কোনো সংজ্ঞা নেই
দৈর্ঘ-প্রস্ত ওজন কিংবা কোনো
মাপকাটিও নেই
না,ভালোবাসার কোনো ফর্মূলাও নেই
গর্ভবতি মা সন্তান প্রসবে ভুলে যায় দীর্ঘ
নয় মাসের যাবতীয় যন্ত্রনা
নবজাতকের মুখে শালদুধ দিয়ে একমাত্র
মা- তৃপ্তির হাসি হাসতে পারে
যে ব্যক্তি দেশের প্রতি বা মাতৃভূমির প্রতি
প্রাণাধিক ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে
তা উত্তম ভালোবাসা
মানুষকে ভালোবাসলে মানবতার প্রকাশ
প্রকৃতিকে ভালোবেসে মানুষ
মুক্তমনের অধিকারী হতে পারে
জয় হোক ভালোবাসার পূর্ণ মমতায়
জেগে থাকুক অনন্তকাল
মানবতার কল্যাণে


দৃঢ় প্রত্যয়ী



কনো এতো যাতনা দাও আমাকে
আর সইতে পারি না
তবোও উন্নত শিরে চঞ্চলতায় হাঁটি
দ্বিধাহীন প্রতিহত করে প্রতিবন্ধকতা
যন্ত্রনাকাতর প্রতিরোধ ব্যারিকেড অতিক্রমে
সাহসী পুরুষ সর্বদা নির্ভীক
কখনো ভীত নই,
আশার আলোক সন্মুখে রেখে অতিক্রম করি অপ্রতিরোদ্ধ বাধা
জাগতিক সুখ-সম্বৃদ্ধি, লোভের বসবতি
হওয়ার বাসনা ত্যাগে দৃঢ় প্রত্যয়ী


নিষ্কৃতি

দূর্নীতি নির্মূল যদি হয় দেশে
প্রভাব তো পড়বেই ভালো পরিবেশে
ব্যাংকের দূর্নীতি সবচেয়ে শেরা
লগ্নির টাকাগুলো হয় নাতো ফেরা
প্রশাসনে, ব্যবসাতে দূর্নীতি বাসা
নাগরিক সাধারণ হারাচ্ছে আশা
অন্যের সম্পদ কেড়ে-মেরে নিয়ে
নিজে বড় হতে চায় জোরে লাফ দিয়ে-
তাদেরকে প্রতিরোধ করা যদি যায়
জনগণ ভয় থেকে নিষ্কৃতি পায়


No comments

Powered by Blogger.