কাজী বর্ণাঢ্য'র কবিতাগুচ্ছ

কাজী বর্ণাঢ্য' কবিতাগুচ্ছ



Agooan - আগুয়ান - কাজী বর্ণাঢ্যর কবিতা
Agooan - আগুয়ান - কাজী বর্ণাঢ্যর কবিতা




সন্ধ্যাকালীন




আমি বরং তালতলি বাজারে বসে
সন্ধ্যাকালীন এক কাপ চায়ে চুমুক দিই
সবুজ শাড়ী আর লাল টিপ পরে
চলে এসো শীতলক্ষ্যা পরী

আমাদের হাত ধরে রাতটা
বাঙালি হয়ে উঠুক

তিনমাথাঅলা তালগাছটার
ঠিক উল্টো পাশের গলিতে
পায়ের উপর পা তুলে উচ্চস্বরে করছি
তুমিময় সংগীত

'আমি তোমায় ভালোবাসি'


অন্ধকার


যা দেখা যায় তা অন্ধকার
কুপি বাতি জ্বালিয়ে দাদী নানীরা দেখাতেন
অন্ধকারের গভীরতা কত
যুগে আপুরা সুইস টিপতে শিখলো

আব্বাও আম্মার সাথে জড়িয়ে
অন্ধকারে তলিয়ে গেলেন

আলো জ্বালালে
অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখা যায় না

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসেতবে একলা চলোরে...

পরিবর্তন আসবে না কোনো
মিথ্যে প্রতিশ্রুতি
প্রণয়ের ভাণ করে গিলে খাবে দামিসময়
কোনো ভরসা করা যায় না
পৃথিবীতে কেউ কারো পাহারাদার নই
পাশে ঘাপটি মেরে বসে থাকা বন্ধুটিও অবিশ্বস্ত

নিজের পথ হাঁটতে হয় নিজেরই বলে
ইতিহাসে তাঁকিয়ে দেখো
যার যার পায়ে সে সে- এগিয়ে গেছে

অমসৃণ পথ মসৃণ হবে না কোনো কালেই
সামনে ফুল বাগিচা দেখে দৌঁড়ে ধরতে চাইবে!
দেখবে এখানেও বারুদের গন্ধ
প্রণয়ের ভাণ করে গিলে খাচ্ছে সময়...

কয়েক জনমেও ফুরাবার নই
গরীরের হাহাকার



কারিমা

আকাশ ক্যানভাসে সিনথেটিক রঙে আকাঁ এবস্ট্রাক মায়ায় ডুবে গেছে দুঃখবাদি মন যেনো তুমিই জরির কারুকার্যময় নীল শাড়িটি পড়ে অবলীলায় ঢুকে গেছো চোখের ল্যান্সে। আমার গা ছিটকে ছড়িয়ে পড়ছে একশ চার ডিগ্রী জ্বর, মাথার বাম পাশে ভেজা পট্টি আর এলোপ্যাথিকের পুষ্পিত ঘ্রাণ, হৃদয়ে কারিমা নামের বায়োম্যাট্রিক তুফান সহস্রজন বলেছে ভুলে যেতে নাম ভুলে গেলেও নড়ে উঠো অকারন সাইকোলজিস্ট বন্ধু বলেছে কোনদিনও সারবে না কবিতাময় ব্যাধি অপ্রাসঙ্গিক ভাবেই রোদমাখা দুপুরে নেমে আসবে কারিমা কারিমা প্রসঙ্গবৃষ্টি !!!





Agooan - আগুয়ান - কাজী বর্ণাঢ্যর কবিতা
কাজী বর্ণাঢ্য



অলসপুরের বাসিন্দা

ঘুমের মাঝে নেমে আসে যুক্তিহীন সকাল
যুক্তিহীন পাখির হৈহুল্লোর

অলসপুরের বাসিন্দা
নিরলস ঘুম ছাড়া কিছুই বুঝি না
বারবার নিজের মৃত্যু কামনা করি
চিরনিদ্রা
আর যেনো সকাল না আসে
আর যেনো দাঁত ব্রাশ না করি
আর যেনো গোসল না করি
আর যেনো খাবার টেবিল না ডাকে
প্রতিদিন একই রুটিনে বিরক্তি এসে গেছে


টান


ভালোবাসতে গিয়ে প্রতারিত হবে
এটাইতো স্বাভাবিক
এরকম কেনো ভাবো
তোমার ব্যাপারে ব্যতিক্রম উপহার!

সময় দিয়ে কেনা অতীত দেখে
কেনো শিক্ষিত হও না
লোভে কামে ছেড়ে দিয়েছো মূর্খের রশি
এবার টানো
শৈল্পিক টানে তুলে নাও-
জীবন নদীর মাছ...


কুত্তা বিলাইয়ের ছা

  - স্যার, পাসটা টেহা দিবেন

  - চুপ থাক্ চুতমারানির পোলা
     বন্ধ কর্ তোর প্যানপেনানি
     গরীব কি মানুষরে
     দুনিয়ায় তোরা এক প্রকার প্রাণী মাত্র
     এই ধর যেমন কুত্তা বিলাই চিকা...
     এই নে
     নে বাপ দু টেকা
     লজেন্স কিন্না আইনা
     হাত পা মাথাডা ভালা কইরা বানায়া দে
    তাড়াতাড়ি আয়
    আমার আবার মিটিং আছে যায়তে হয়বো
     তাছাড়া
    একটু পরই চইলা আসবো
    আমার সোনার টুকরা সন্তানেরা

  - স্যার আপনেরাতো আমাগো মা বাপ
     আর আমরা সব কুত্তা বিলাইয়ের ছা


জীবনের চলচ্চিত্র


এই বসন্তমাতাল নির্জন রাতে বারান্দার গ্রিল ধরে গোল্ডলিফের ধোঁয়া গিলছি
নগরের ইট-পাথরের বিরাট ভবনে বন্দি দেহ
মন-মস্তিষ্ক উড়ে গেছে প্রেমিকার বাড়ি

আমি এখনো আদিম, মাথা ন্যাড়া করে শান্তি পাই
পথে হেঁটে গান গাই ছবি আঁকি, শান্তি পাই
কল্পনায় ভেসে যাই, শান্তি পাই


অথচ
মাটির ঘর ভেঙে তারাও তুলে নিয়েছে ইটের দেয়াল
আমাকে এখনো স্পর্শ করেনি নাগরিকতা

আপনমনে অনিয়মে এগলি ওগলি দৌঁড়াচ্ছে আর চেঁচাচ্ছে একটা পথকুকুর
একা বসে আছি জেগে আছি
জেগে আছে রাতবন্ধু
চেয়ারে কব্জি রেখে বালিশ করে ঘুমাচ্ছে দায়িত্বশীল নাইট গার্ড

সামনের ফ্লাটের 'তলায় জানালা খুলে পয়ার তালে উঠানামা করছে শরীরের উপর শরীর
আমার চোখ ফিরিয়ে নিলাম না
কবিতার দিকে
আমার চোখ ঘুরিয়ে নিলাম না
ছবির দিকে
আমার কান সরিয়ে নিলাম না
অন্যকোনো সুরের মূর্ছনায়

একাধারে দেখে যাচ্ছি চলমান জীবনের চলচ্চিত্র
আমার মূর্খ মন আর মানছে না
শেষমেষ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি


রেশমি সুতায় নকশা আঁকা জীবনের দিকে।


No comments

Powered by Blogger.