দোজখের লাল রঙ, আসলে কোন রঙ?

দোজখের লাল রঙ, আসলে কোন রঙ?










দোজখের লাল রঙ-সেই উপন্যাস যেখানে ভালোবাসার জয় একই সঙ্গে মিথ্যারও জয়। মজনু সহজ সরল এক তরুণ। সে স্পষ্টভাষী। তার ভিতর বাহিরে আলাদা কিছু নাই। সে মুখে যা বলে অন্তর দিয়েই বলে। তার মনে খুব ভয় মরণের পরে কবরের নিঃসঙ্গতার কথা ভেবে। সে বিশ্বাস করে পরকাল আছে। কবরে জীবিত হবে। ফেরেশতা আসবে। প্রশ্ন করবে এবং এই জন্য সে সত্য ভালোবেসে সমস্ত অন্যায়ের বিপক্ষে দাঁড়ায় কিন্তু লাল নামক বাহিনীরা তাকে বারেবার বাধা দেয় এবং একদিন তার শাস্তি হয় জিহ্বা কাটা। এই কারণে সে দুঃখ বোধ করে না। সে নিজেকে বোবা হিসেবে মানিয়ে নেয়। জন্ম থেকে সে জিহ্বাহীন ছিল ভেবে নেয়

হঠাৎ একদিন সে দেখে সত্য পক্ষে যাওয়ার কারণে একটা শ্রেণি উন্মাদ হয়ে যায়গালাগাল করে এবং তাদেরকে শক্তি প্রেরণা দেয় ক্ষমতাবানরা। মজনু এসব দৃশ্য দেখে এবং সে আরোও দেখে একদিন রাতের বেলায় ফেরেশতাদের শোভা মিশ্রিত আলোকিত মঞ্চে নেমে আসে যন্ত্রণার বারুদ। তৎক্ষণাৎ দৌড়াতে শুরু করে অনেকে। গুলিবিদ্ধ হয়কেউ চিরদিনের মত শুয়ে যায়। সবুজ ঘাস লাল রঙে ভরে যায়। এরি মধ্যে পবিত্র গন্থ কুরআন শরীফ পুড়ে ছাই হতে থাকে। এসব ঘটনার পরেও ওরাই অপরাধী  হয়ওদের নামে মামলা হয় এবং ক্ষমতবান একজন টিটকিরি দিয়ে বলে,ওরা লাল রঙ মেখে শুয়েছিল



উপন্যাসের এক পর্যায়ে উজ্জ্বল দ্যূতির মত প্রেম আসে। শ্যামলতা আসে।  এক অন্যরকম। বোবা একটা মানুষের জীবনে এক সুন্দরের মিলনঅপরূপের মিলন। জিভ হারানোর যন্ত্রণা প্রেমকে ভুলিয়ে দেয়

এর পরের পর্যায়ে ক্ষমতবানরা একটা লাল মসজিদ নির্মাণ করে এবং সে মসজিদে যেতে সবাইকে বাধ্য করা হয়, যারা না যায় তাদের নামের লিস্ট হয়।  লিস্টে মজনুর নাম প্রথমে থাকে এবং তার নাম লেখা হয় বোবা

মজনুর মধ্যে অলৌকিক ক্ষমতার জন্ম নিলেওসে পাখি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও দ্বিতীয় শাস্তি পেতে হয়-এবং এই শাস্তি যায় শ্যামলতার উপর দিয়া। সে এক কঠিন ব্যাপার। লাহাব লাল এমনি শক্তিময় যে বাহিরের ক্ষমতার পাশাপাশি ভিতরেও শক্তির বিস্ময়এই কারণে শ্যামলতার জীবনেও একটি শাস্তি নেমে আসে তবুও  দুঃখী হয় না সে হাসে,আনন্দ উৎসবে কিংবা জয়ী হলে যেমন হাসে

দোজখের লাল রঙ আমার প্রথম উপন্যাস। এই প্রথম বেলায় দোজখের লাল রঙের মাধ্যমে আমি চারপাশের ভয়াবহ কিংবা সুন্দর দৃশ্যগুলো তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। তাতে আমি কতটুকু সফল হতে পেরেছি আপনাদের মাধ্যমে জানার আগ্রহ প্রকাশ করি। আমি চাই যে-এই উপন্যাস প্রচুর সমালোচিত হোক। মানুষ নিন্দা করুক। তবুও পড়ুক
-সাঈদ কামাল




No comments

Powered by Blogger.