কটকতারার পদাবলি

কটকতারার পদাবলি


agooan





সেই নামটি শশীলতা

মুস্তাক মুহাম্মদ


সোনার মোড়কে মুড়ে এলো ভালোবাসা
ভালোবাসার সুখ পাখি শশীলতা
দিবা-রাতে গান গেয়ে যায়
যা মনের মধ্যে উতলা ঝড় বয়।
প্রতি মুহুর্তে মনের ঘরে দেয় যে উঁকি
ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারি না যার স্মৃতি
সেই নামটি শশীলতা
সেই নামটি ভালবাসা।



বর্ষার ছড়া

এমএম নজরুল ইসলাম


আকাশ বেয়ে মেঘের মেয়ে
ঝরায় শুধু বারি
নীল আকাশে উড়াল দিল
সাদা বকের সারি।

মেঘের ডাকে বিজলী নাচে
পড়ছে দূরে বাজ
তবু কিষাণ আপন মনে
করছে মাঠে কাজ।

টাপুর টুপুর বৃষ্টি নূপুর
মধুর লাগে কানে
হাওর দিঘী পুকুর ভাসে
ভরা নদীর বানে।

কদম কেয়া বনফুলের
গন্ধ ভেসে আসে
জোছনা রাতে শাপলা ফুলে
চাঁদের আলো হাসে।

বিলের মাঝে অগাধ পানি
খোকা ভাসাই ভেলা
কলমী লতার ঝোঁপের ফাঁকে
ডাহুক করে খেলা।

নায়ের মাঝি গাইছে গান
বাইছে ধীরে নাও
ভেকের ডাকে মুখর থাকে
সাঁঝের বেলা গাঁও।


রুদ্ধবাক

মোহাম্মাদ শামীম


আমার ইচ্ছের পাখিগুলো ডানা মেলতেই
বজ্রনাদে গর্জে উঠলো আকাশ
চোখে অন্ধকার মেখেÑ
গাছের শাখা উড়িয়ে বয়ে গেল দুরন্ত বায়ু
তৃতীয় প্রজন্মের জলোচ্ছ্বাস তখন আকাশ সমান
গুজবের হাতীশুড় ঠেকাতে বেজে উঠলো টিনের থালা
মানুষের চোখেÑমুখে বিনাশের ছাপ।

পৃথিবীর গর্ভপাত রোধে গঠন হয়েছে বিশেষ কমিটি।

আপাতত আমার পাখিরা নিরপেক্ষই থাক।




ভোজ

গাজী মেহেদী হাসান


মাইক্রোফোন হাতে পেলে,কাঁক ছুড়ে দেয় কোকিলকন্ঠি আওয়াজ।
নীতি নৈতিকতা,সততা,দেশপ্রেমের বাণী মুখে মুখে ফোটে।
জনতার চেতনা জেগে ওঠেহঠাৎ বৃষ্টির মতো শুরু হয় হাত তালির আওয়াজ।

অতঃপর মুখোশ উন্মোচিত হয় নিশিতে
 নৈতিকতাসততাদেশপ্রেমফুঁ দিয়ে উড়ায়।
মধ্যরাতে নব্যহেরেমে ঝাঁঝালো পারফিউমের গন্ধে মেতে ওঠে
কাঁচা মাংশের ভোঁজ


ব্যথার নদী

মোঃ আব্দুল কাদের


হৃদয় মাঝে ব্যথার নদী
নিত্য বয়ে চলে
মনের ভিড়ে মন হারালাম
মিথ্যে খেলার ছলে।

কখন যেন কেমন করে
মনটা গেল চুরি
মন হারিয়ে মনের খোঁজে
পথে পথেই ঘুরি।

পা না খুঁজে ত মনটা আমার
আগে যেমন ছিল
কোন যাদুতে মনচোরা মোর
মনটা নিয়ে নিল।
সবই আছে তেমনি মধুর
কোথাও নেই ফাঁকা
চাই যেখানে রাখতে যারে
যায়নি তারে রাখা।

এমনি করে যায় না থাকা
মনটা ব্যথায় কাঁদে
তবুও আবার কোন ভরসায়
বুকটা আশায বাঁধে।




নিয়তির পরিহাস

কওছার আলী গোলদার


সকাল বেলা শীতে জড়সড়
শুয়ে আছে খুনখুনে বৃদ্ধ একটা
স্টেশনে পেতেছে বিছানা
ছেড়া পলিথিন,মাথায় সিমেন্টের বস্তা বালিশ।
একেতো শীত তারপরও
স্টেশনের মশা-মাছি
উপদ্রব করছে নাকে-মুখে বসে।
কাঁথার পরিবর্তে গায়ে ছেড়া লুঙ্গি
ময়লা জ্যাকেট।
পা দুটো দলা করে
মাজাটা কুজো করে
ঘুমাচ্ছে নামে মাত্র,
বার বার তাড়াতে হচ্ছে
মশা মাছির ঝাক
চোয়ালটা বসে গেছে থুতনি পর্যন্ত,
চোখের কোনে বয়ে যাচ্ছে যেন
শীতার্ত অশ্রু।
একটু পাশে ঘুমাচ্ছে এক দুখীনি মা,
হয়তো না খেয়ে বা আধাপেটা
বাসি পঁচা খাবার খেয়ে
শুয়ে আছে প্রকৃতির বিছানায়।
বুকের উপর অবুঝ শিশু
 মায়ের স্তন চুষে যচ্ছে
ময়লা কাদা-মাটি গায়ে
শীত নিবারনের জন্য করছে জ্বালাতন।
মা ঘুমে কাতর, তবুও
বাছারে বুকের মধ্যে নিয়ে
ছেড়া কাপড়ে আগলে রাখার চেষ্টা।
  সময় কত আদরের সন্তান
সুখ শয্যা ছেড়ে ধনী বাবা মার ....
আদর সোহাগে জ্বালাতন।
খেতে চায় না তবুও আঙ্গুর, আপেল,
হরলিক্সের গ্লাস হাতে কত আদর আবদার
সোনা খেয়ে নাও, মানিক খেয়ে নাও বলে।
অথচ এক মুঠো পঁচাবাসি খাবার
মাথা গুঁজবার মত ঠাঁই
রোগে একটু ঔষধের জন্য
কতই না আকুতি 
হায় বিধাতা, একি ভাগ্যের পরিহাস।



নির্বাক

মোঃ সাইফুল ইসলাম


লিখবোটা কি ভাবছি বসে
হারায় ফেলছি ছন্দ
চোখের সামনে দেখছি সবই
তবু আমরা অন্ধ।

ধর্ষন হচ্ছে নুসরাত,তনু
শহীদ হচ্ছে আবরার
ধরছে খুনি তবু কেন
ছাড়া পাচ্ছে বার বার?

টাকার কাছে নত হয়ে
বেচে দিচ্ছি ধর্ম
হাজার আঘাত চিহ্ণকেও
বলছি রোগ চর্ম।

বলতে গেলে লজ্জা লাগে
আজব আমার দেশ
উত্তেজনা থেমে গেলেই
সব বিচারই শেষ।



দেশ

 নুরনাহার


মাটি সুন্দর, মানুষ সুন্দর
আরো সুন্দর দেশ
এই দেশে জন্মেছি, আলো বাতাস
ভালো লাগে বেশ।
এই দেশ কত সুন্দর
শিল্পীর আঁকা ছবি
এই দেশে জন্ম নিয়েছে
দার্শনিক,সাহিত্যিক
কত কবি।
পায়ের নিচে ঘাসগুলি যেন
ফুল তোলা গালিচা
বন বনানী আর গাছপালা দিয়ে
সাজানো বাগ বাগিচা।
আমার গর্ব, আমার অহংকার
আমার জন্মভূমি
এই দেশে জন্ম নিয়ে
ধন্য হয়েছি আমি।
এই দেশের চারিদিকে
সবুজ সুন্দর শ্যামল
পায়ের নিচে দুর্বাঘাসগুলি
কি সুন্দর নরম কোমল।


মায়াবী ক্ষুধার্ত

মোঃ আসমত হোসেন

আজো সেই মিছিল, ক্ষুধার্ত মানুষের মিছিল
যে মিছিলে ওরা সবাই ক্ষুধার্ত কিন্তু, অনাহারী নয়
আরো একবার এসেছিল ক্ষুধার্ত জনতার মিছিল
যে মিছিল সেদিন ছিল স্বদেশের মাটিতে শিকল পরা,
উদয় অস্তে সংগ্রামী কোদাল কাস্তে মাটির বুকে ফালা ফালা করে
পলী মাটি ছড়াত, কীটে খাওয়া শষ্য ঘরে ঘরে তুলে
মহাজনের মন রেখে রাখতে হল বিবি বাচ্চারে
অর্ধাহারে, অনাহারে, মাথার উপর অগোত্রীয় বিধাতা,
জোকের জিহ্বায় অসম হিস্যা করত আস্থায়
একদিন সেই মিছিলে হল বারুদের বিস্ফোরন,
রক্তস্নাত মাটি ফুড়ে এল উড়ে একফালি চাঁদর
বিজয় উল্লাসে হেসে হেসে উড়ল বাতাসে
সবুজের ছবিতে এক তাল রক্তবাহী চাঁদর।

ততক্ষণে সংগ্রামী উদর রণক্লান্ত, ক্ষুধা কাতর
আসন পাতা হল, আধাশুকনো রক্তমাখা ঘাসের উপর।
সুসজ্জিত কাটারিং হাতে জলে ভরা জগ
শানুক ভরা সাদা ভাত, কলমি শাক, খলসে মাছের ঝোল
মালসা ভরা মসুরের ডাল, উদরপূর্ণ করে উঠে গেল সব খামারিরা
মুক্ত রোদেল প্রান্তরে, স্রষ্টারে জানাল সহস্র শোকরিয়া।
শুধু উঠলনা সেই চাঁদর তলে বসা অনন্ত ক্ষুধার আহারিয়া,
প্রাপ্যের চেয়ে আরো নিল চেয়ে, তবু রইল ক্ষুধায় নেতিয়ে,
কপাট ভেঙে ঢুকে গেল রন্ধনশালায়, মাংশ চায়,
রক্তাক্ত কচি পাঠার ভাজা মাংশ সাথে বিধাতার বেহেস্ত
হলো আদায় জোকের জিহ্বায় বিতাড়িত বিধাতার ফমুলায়,
এখন অসীম ক্ষুধার্তের নিঃশব্দ তন্ডব, রন্ধনশালায় শৃংখলের হামলা
ত্রাসিত খমারিরা, সামনে জলহীন জলাধার, আর্তনাদ, হাহাকার
অবশিষ্ট আশার আলোক রথে নিরাশার গর্জন
শুধু মাটিচাপা মুক্তিসেনার পঞ্জিভূত হুঙ্কার বলছে, বলত
মূল্যটা কত আর বাতাসে ওড়া ঐতিহাসিক চাঁদরটা!



সোনার বাংলা

বাবুল আহমেদ তরফদার


সোনার বাংলা সোনায় ভরা
চড়ে সোনার রথে
দেখব ওরে কত সোনা যে
ছড়ায় আছে পথে।

সোনার বাংলায় সোনার বিলে
শাপলা সোনা ফোটে
চাঁদের সাথে বলতে কথা
মুক্তা ঝরায় ঠোঁটে।

সোনার বাংলায় সোনার ছেলে
মায়ের ভাষা ভক্ত
রাজপথ তারা লাল করে দেয়
ঢেলে বুকের রক্ত।

হাওড়-বাওড় বিল নদী খাল
সোনায় মুড়ে ঘেরা
সোনার বাংলায় সোনার ইলিশ
বিশ্ব বাজার সেরা।

সুন্দর বনের সোনার হরিণ
সোনার বাংলা বাঘ
খেলছে তারা সারা বিশ্বে
লাগায় দিয়ে তাক।

সোনার বাংলায় সোনার ফসল
সোনার পাখি গায়
সোনার মাঝি গান গেয়ে যে
নাও বাহিয়া যায়।

সোনার বাংলায় সোনার মানুষ
সোনার এদেশ গড়তে
সোনার বাংলার জন্মেছি
চাই এখানে মরতে।

*কটকতারা যশোরের কপোতাক্ষ সাহিত্য পরিষদ প্রকাশিক মাসিক পত্র








No comments

Powered by Blogger.