মুকিম মাহমুদ মুকিতের একগুচ্ছ কবিতা

মুকিম মাহমুদ মুকিতের একগুচ্ছ কবিতা




আগুয়ান - কবিতা - পদাবলি - Agooan webmag - আগুয়ান ওয়েবম্যাগ
মুকিম মাহমুদ মুকিতের একগুচ্ছ কবিতা





ভ্যাগাবন্ড


শীর্ণ কাপড়ে রৌদ্রে পুড়ে ঘুরছে সে নির্মল ভূবন, পাতাঝরা বৃক্ষের সম দুঃখ ঝরে: জুড়ে সমস্ত জীবন বাহ্যিকতা করুন রাঙানো
অতি ঘন দুর্ভেদ্য জঙ্গল, রৌদ্র দিনেও অন্ধকারে আচ্ছাদিত রাখে পদতল ল্যাম্পপোস্টের জীর্ণ আলোর মতো ধিকে ধিকে জ্বলে জীবন,
দিবস-নিশিতে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম আর তার এক ক্ষুদ্র কোণ অতি আপন দৈন্যতার করাল গ্রাসেও থমকে থাকে না স্বপন
নাটাই হারা ঘুড়ির মতো গন্তব্যহীন এদের জীবন পথের ধারে অবহেলায় ফোটে নির্মল এলামন্ড,
জীবন এদের জীবন বটে;
এরা ভূধরে ভ্যাগাবন্ড



ক্ষণিকের অতিথি


কলমি লতার শীর্ণকায় ডগার শীর্ষে উড়ে এসে বসে এক খয়েরি ফড়িং নিরবে, নিরিবিলিতে বসে
বসে কলমি লতার চোখাচোখি কলমি লতার সাথে আজন্ম তার ভাব, বিস্তৃত জলরাশিতে ভেসে ওঠে তার অবয়ব জলের ঢেউ দুলে ওঠে হঠাৎ, কম্পিত হয় ফড়িংয়ের প্রতিচ্ছবি কম্পিত জলে চেয়ে স্থির ফড়িং খুঁজে পায় চঞ্চলতা মুহূর্তে খয়েরি ফড়িঙের বিস্তৃত ডানা কেঁপে ওঠে, দ্রুততর সঞ্চালিত হয় নিঃশব্দে চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে যায়, ফড়িং উড়ে যায় বহুদূরে কলমি লতাটা একা ভেসে থাকে জলের ওপরে মাথা তুলে চুপচাপ সে জানে আবার আসবে কোন ফড়িঙ, হয়তো খয়েরি নয়, অন্য রঙের ফড়িঙ আসবে ক্ষণিকের অবকাশে, কিন্তু কবে আসবে তা জানে না ! এরা মানে না কোন তিথি, কলমি লতার কাছে এরা ক্ষণিকের অতিথি




রৌদ্র ছানা


এই যে দেখ রৌদ্র ছানা
এনেছি মুঠি পুরে,
দূরন্ত এই ছানাটাকে
ধরেছি অনেক ঘুরে

প্রভাত বেলায় জানালাতে দেখা দিত রোজ,
ধরতে গেলে পালিয়ে যেত পেতাম না আর খোঁজ

রৌদ্র ছানা ধরতে মানা
কেউ যেন না জানে,
চুপটি করে শোন কথা
বলছি কানে-কানে

দু'দিন হলো ঘুরছি পিছে চায় না দিতে ধরা,
রোদের পিছে ঘুরতে গিয়ে হলাম আধা-মরা

অনেক ঘুরে দিন শেষে
হলাম আমি ক্লান্ত,
ধরতে পাই নি তাই বলে কি
হবো আমি ক্ষান্ত!

অনেক ভেবে জানালাতে পেতেছিলাম ফাঁদ,
আমার ওমন বুদ্ধি বলেই
রৌদ্র ছানা কুপোকাত

যেই না ছানা পালিয়ে যাবে নিলাম মুঠি পুরে,
রৌদ্র ছানা ধরেছি আমি দেখাই ঘুরে ঘুরে

থামো থামো করছো একি!
মুঠিতে দিও না হাত,
রৌদ্র ছানা পালিয়ে যাবে হাত হলেই কাত

করলে একি! দিলে তো ভাই
রৌদ্র ছানা ছেড়ে,
অনেক কষ্টে ধরেছিলাম
রোদের পিছে ঘুরে




এখানেই সুখ

তবুও বলি আমার সুখের সংসার, উত্তরে আসে "কে বলেছে? ছুটি দরকার" সময় বড়ই অল্প এখানে, ওখানে অনেক বেশি তাও ভালো, আমি নই, ওটাই সর্বনাশী ওটা করে নাশ গাছের নতুন পাতার দল শক্তি নেই, তবুও ভাবে ওটাই আসল বল বাতাস যবে উড়ায়ে নেবে সাজানো রঙিন ঘর ভাঙা ঘরে পরে রবে তুমি, আপন করবে পর যতোই রঙিন হোক না কেন দূরের হাজার নাও কাছে আসতে রঙ ফুরবে, তবুও মরীচিকা তরে যাও! ঘুরায়ে ফিরায়ে সেই এক নদ, সেই পরিচিত স্থল চার পাশের চেনা জানা সব, সেই সে কালো জল মাঝেই রয়েছে যত আসল মন্ত্র গুণ এখন বৈশাখ, ধৈর্য ধর আসবেই রঙিলা ফাগুন




দুর্নিবার


ইতিহাস অনেক দীর্ঘ...
অনেক আগেকার,
কালো হাতের অশুভ শক্তি ছেয়েছিল একবার
পলাশীতে ছিল কালো হাতের উত্থান দুইশ বছর, তার অত্যাচার নিভু নিভু করে তবুও নেভেনি; জ্বলেছে বাঙালির অন্তর
এক তিতুমীর হয়েছে পরাজিত হাজারো তিতুমীর হয়েছে সৃষ্টি, এক প্রীতিলতা দিয়েছে আত্মাহুতি লক্ষ প্রীতিলতা হয়েছে তার সাক্ষী

কে দেখেনি, কে শোনেনি?
এই সেই বাঙালি,
রক্তে যাদের স্বাধীনতা মেশা, কন্ঠ যাদের প্রতিবাদী
কে রাখবে দমিয়ে এদের
কে করবে বন্দি!
এই সেই ইতিহাস!
যার প্রতিটা পৃষ্ঠায়, প্রতিটা লাইনে আঁকা আছে বিজয়ের কাহিনী এই সেই বাংলা, এই সেই বাঙালি পরাশক্তির অধীন হতে,
এরা কখনো শেখেনি

এরাই সেই বাঙালি
যাদের থেকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল মায়ের মুখের বুলি
এই সেই বাংলা, এরাই সেই বাঙালি যারা, রক্ত দিয়ে ইতিহাস গড়েছে রুখে দিয়েছে কালো হাতের অশুভ শক্তি

এই সেই ইতিহাস
যার প্রতিটা পৃষ্ঠায়, প্রতিটা লাইনে গ্রন্থিত আছে
বাংলা ভাষার জয়ধ্বনি এরাই সেই বাঙালি
শাসন, শোষণ, বঞ্চনায় অতিষ্ঠ হয়েও মরতে এরা শেখেনি

একটি মুখের কথায় উজ্জীবিত হয়ে, নতুন ভোর দেখার প্রত্যয়ে, দুহাতে অস্ত্র উত্তোলিত করে, প্রশিক্ষিত হায়েনাগুলোকে পরাস্ত করে, নতুন পতাকা দিয়েছে উপহার এই সেই বাঙালি, এটিই এদের ইতিহাস যার প্রতিটা পৃষ্ঠায়, প্রতিটা লাইনে লেখা আছে : এরা দুর্নিবার

No comments

Powered by Blogger.