শাহিন চাষীর কবিতাগুচ্ছ


শাহিন চাষীর কবিতাগুচ্ছ





online magazine - poem- kobita - agooan - webmag - web magazine - online news- shahin chashi - আগুয়ান - অনলাইন ম্যাগাজিন - ওয়েবম্যাগ - কবিতা- শাহিন চাষী
শাহিন চাষীর কবিতাগুচ্ছ



বিরহ




বিশ্বাস করো,
তোমার জন্য মন আজ বড় বিরহ কাতর
বাতাসে ভাসে সেই শরীরী ঘ্রাণ!

 খুব ইচ্ছে করছে-
তোমার চুমুর উষ্ণতা মেখে
গরম কফির নরম ধোঁয়ায় উড়ে যাই
            ঘন ঘাস আর কবিতার দেশে;

তুমি থাকলেই
বুক ছুঁয়ে থাকে সুনীল আকাশ,
ঢেউয়ের মুদ্রায় সুখ-দুরন্ত অষ্টাদশী,
        পচা শ্যাওলায় নক্ষত্রের কোলাহল
তুমি নেই বলে
রঙিন বসন্ত বড়ই স্যাঁতসেতে,
জ্যেৎস্নায় ঝরে আগুনের ফুলকি ,
      হৃদয়ে সচল স্বয়ংক্রিয় করাতকল!
মন বলছে বারেবার-
বিচ্ছেদের চুক্তিটা ছাই করি অবলীলায়,
অতঃপর যাবতীয় শূন্যতা উড়াই..




নরাধমের জন্য

প্রাণের প্রশ্নে-
যথাযথ সহমর্মিতা পাক শ্বাপদ আর নিকৃষ্ট শুয়োর,
জীবনের নেপথ্যে সেই একজন কারিগর
যে আগুন জ্বালে,
যে উলঙ্গ হেসে বানায় মানুষের কাবাব,
সে পাপবাহী নরাধম- শুয়োর অধিক নিকৃষ্ট নিশ্চয়;
নরাধমে সখ্যতা স্রষ্টা বিরোধীর স্পষ্ট পরিচয়
আচারে, দুর্গন্ধে
চিরকাল শুয়োরই ঘৃণিত মনুষ্য সভ্যতায়,
এখানে কেন তবে নরাধম বিচরণে এত আয়োজন?
এই সত্য- সাপে প্রেম গাধার বোধে আত্ম প্রহসন
রক্ত স্নাত মাটি,
ভুলে যাও কুম্ভকর্ণের আলস্য স্বভাব
আর রুখে দাও নরাধম- দৃঢ় প্রত্যয়ে, তীব্র হংকারে;
তোমার নীরবতায় বুকের গহনে উপহাস ঝঙ্কারে
প্রাণের বিবেচনায়--
মেনে নেওয়া যায় অসূর শুয়োরের পায়ের ছাপ,
নরাধমে চাই কেবলই ঘৃণা, নির্মম অভিশাপ




ফাল্গুনী ঝড়

কাল রাতে
হৃদয়ের শাখায় চুপচাপ বসেছিলে তুমি
অথচ আমার কোন কবিতা হয়নি!
আমি দেখেছি--
শব্দের চুমু খুঁজে কম্পমান কোমল ঠোঁট
আর প্রগাঢ় শূন্যতা মাখা চোখ,
শব্দরাও ছিল মিলন নেশায় উদগ্রীব
চারিদিকে শুধু অন্ধকারের তুমুল গর্জন!
তুমি জানো না--
আমি গোপনেই ছোঁয়ায় আঙুলে আঙুল,
আমি নীরবে মাখি শরীরী উষ্ণতা
শব্দ ছুঁয়ে অথবা শব্দকে ভালবেসে
কিংবা তোমাকে সাজিয়ে শব্দ- উপমায়
কাল রাতেও
আমার অনুভবে তুমি ছিলে জলপোকা,
অথচ শব্দ ছোটেনি উদভ্রান্ত
ফাল্গুনি ঝড় এনেছিল উন্মাদ অন্ধকার!




উদ্বেগ


অবাক দীর্ঘশ্বাস
আর সকরুণ কান্নার ধ্বনি ভাসে
আকাশে, মাটিতে আর উন্মুক্ত বাতাসে।

কোন মাটি?
এখানে কেন এত অন্ধকার?
কেন ভেসে যায় সমস্ত আলোক বহুদূরে ?
কোথা থেকে এলো এত হিংস্র পশু
       সাম্যের তীর- এই সবুজ প্রান্তরে?

একদিকে মার খায় আল্লাহ,
অন্যদিকে দিন-রাত অসহায় ভগবান;
কাঁদে রবীন্দ্রনাথ, কাঁদে নজরুল
   ক্ষুদিরাম, তিতুমীর আজ কোথায় ?
কেই কী জাগবে না আর
আলোর গান অথবা মাটির ভালবাসায় !

ওহে হিন্দু ! ওহে মুসলিম !
মানুষ না হয়ে কেন ধার্মিক বলো না ভাই !
মসজিদ লুটাবে, মন্দিরও ভাঙবে
গঙ্গা, পদ্মা বয়েই যাবে প্রবল রক্ত ধারায় !
এই কথা জেনো- হযরত, লোকনাথ
    আসবে না ছুটে তোমাদের সুরক্ষায়।

কেবল ব্যথায়
আর অসহ্য দহনে পুড়ছে সমস্ত দেহ-মন,
আল্লাহ- ভগবান নীরব দর্শক
মাটিতে তবুও ধর্ম ষাঁড়ের উগ্র আস্ফালন !

 তবে কী আমরা ভেসে যাবো
     কুকুর গাধার সাম্রাজ্য সীমায় ?
মনে উদ্বেগ দোলে উৎকন্ঠার লু হাওয়ায়।







ব্যথার বাষ্প 

তোমাকে রাঙাতে
একমাত্র আমিই বিবিধ রঙের ফেরিওয়ালা
অথবা আত্মভোলা কোন আলো কুড়ানী
যখন পৃথিবী
ক্লান্ত শ্রমিকের মতো নাক ডেকে গভীর ঘুমে,
আমার চোখ দুটো অতন্দ্র গূর্খা--
কোন ছায়া যেন না ছোঁয় অরূপ চাঁদমুখ
আমি সারাক্ষণ
বাতাসের পিঠে মেরে চলি নিষ্ঠুর রুদ্র চাবুক
যেন সে না থামে এতটুকু আলস্যে,
ঘাম জমলেই তুমি খুব অসহায়, নতজানু
পাখি আর নদীকে
জাগায়ে রাখি নানান বাহানায়, গল্প- কথায়,
কখনো চাইনি- বিন্দু ব্যথার ধ্বনি
তোমার আকাশে মন ভুলেও ভেসে যাক
তুমিও জানো বেশ
এই আমিই কখনো মেঘ, কখনোবা পূর্ণ চাঁদ
বৃষ্টি অথবা তরল জোছনা ঢেলে,
সে কেবল তোমাকে ছোঁয়ার দুর্বার নেশায়
তোমার জন্য
আমি বৃক্ষ অথবা নদী অথবা মুক্ত আকাশ
অথচ দিনশেষে কেমন প্রবল প্রতিপক্ষ!








বিচ্যুতি 

চোখে জমানো স্বপ্নের পাহাড়
ব্যথার তাপে গলে যাচ্ছে নীরবে অবিশ্রাম,
বুকের সমতলে বহমান কষ্টের নদী_
কল্পনার মানচিত্র মুছে আসে,
বিশ্বাসের আকরিক ক্রমশ উদ্বায়ী কর্পূর,
বাতাসে ঢেউ ভাঙে অচেনা একাকীত্ব,
তুমি হেঁটে যাও দূরে, আরো দূরে...
কথা ছিল, একদিন--
আমরা হবো পারস্পরিক শরীর কাঁথা;
অথচ ঘর দেখে আজ অবাক, অপলক--
খাটের উপর এক শূন্যতার কঙ্কাল!
আমার বিপক্ষে জীবন,
অন্ধকারের উগ্র শ্লোগানে মুখর আদিগন্ত;
দরোজায়, জানালায় কালো এক ছায়া,
দৃষ্টি জুড়ে মৃত্যুর ভৌতিক দাঁত!
আকাশটা সরে যাচ্ছে
তার সাথে সরে যায় পায়ের তলার মাটি
উড়ে যাচ্ছে আমার আলোর ভোর!





একটি সত্য কথা


যেখানে, যতদূরেই যাই,
অনুভব ছুঁয়ে বুকের গহীন ভেতর তোমার বাস-
ফুলের পাপড়িতে যেমন সরব সৌরভ
যদি বসে থাকি চুপচাপ,
আমার এই চোখে স্থির তোমার চোখ;
আকাশ, নদী, বৃক্ষ, জোনাকি...
মন খারাপের প্রান্তরে যাযাবর, বোষ্টমী, বাউল..
তোমার প্রহরায়
কখন- কখন আমার প্রতিপক্ষ সমস্ত পৃথিবী;
বাতাসেও একটানা ফিসফাস:
কেবল তোমার ছায়া- আমার একান্ত নিবাস
অথচ তুমি আজকাল
সারাক্ষণ নিমগ্ন রহস্যময় আড়ালের ব্যাকরণে,
আর নীরব অশ্রু গোপনে শুকায়--
অনুরাগ ভুলে, অভিমানহীন- একদম একাকী!
যেদিন নিস্তব্ধ হবো--
একবার এসে কান পেতো নিথর বুকের উপর,
তোমার নামে নিরন্তর ঘড়ির কাঁটা মন


No comments

Powered by Blogger.